আতিকুর রহমান ঝালকাঠি 

একসময় লবণশিল্পের জন্য দেশ-বিদেশে পরিচিত ছিল ঝালকাঠি। ব্রিটিশ আমল থেকে বাসন্ডা নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠে একের পর এক লবণ কারখানা। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ঝালকাঠি বন্দরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে এ শিল্প এখন সঙ্কটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠিতে একসময় ১৭টি লবণ কারখানা ছিল। এর মধ্যে মিতালী সল্ট, নুর সল্ট ও সুরভি সল্টসহ ১০টি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে শরীফ সল্ট, নিউ ঝালকাঠি সল্টসহ সাতটি কারখানা চালু রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে কাঁচামাল এনে সনাতনী পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে এসব কারখানায় লবণ উৎপাদন করা হয়। কয়েক ধাপে পানি মিশ্রিত লবণের দানা শুকিয়ে ঝরঝরে করার পর শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। পরে পরিমাণমতো আয়োডিন মিশিয়ে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আশির দশক থেকে দেশে লবণ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে থাকায় ঝালকাঠির সনাতনী পদ্ধতির কারখানাগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। তবে বর্তমানে চালু থাকা কারখানাগুলোতে আগের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে। বছরে এসব কারখানা থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার লবণ উৎপাদন হয় বলেও দাবি তাদের। 
বাজারে বড় কোম্পানির লবণ খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও ঝালকাঠির লবণের দাম ২০ থেকে ২২ টাকা বলে ব্যবসায়ীরা জানান। তুলনামূলক কম দামের কারণে রাজশাহী, পাবনা ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এখান থেকে লবণ নিয়ে যান।
ঝালকাঠি বিসিকের উপব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, লবণশিল্পের মান ধরে রাখতে বিসিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে। শিল্পটি টিকিয়ে রাখা ও আধুনিকায়নের জন্যও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। 
ঝালকাঠি জেলা লবণ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল শরীফ বলেন, আধুনিক অটোমিলের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করা দরকার। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো প্রণয়নের বিষয়েও চিন্তা করছে মালিক সমিতি। 
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় মূলধন ও সরকারি সহযোগিতা পাওয়া গেলে এবং বিদেশ থেকে লবণ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী লবণশিল্পকে আবারো ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব।