ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা 

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়নে সরকারি সার ডিলার নিয়োগের প্রস্তাবিত তালিকা নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিজ্ঞ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির এক সদস্যের ছেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং তার আপন ভাগিনার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার ছেলে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক মো: মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদের মালিকানাধীন ‘মাবরুক বিজনেস সেন্টার’ এবং আপন ভাগিনা চাল ব্যবসায়ী আবু তাহের সরকারের নাম সুপারিশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মো: মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কৃত ও ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত। এ ছাড়া ২০২৩ সালে জাবি ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামিও তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, একই পরিবারের দুই সদস্যের নাম তালিকায় স্থান পাওয়ায় প্রকৃত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হবে। ডিলার নিয়োগে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, গুদামের স্থান, আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, সার ডিলার নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের নামই সুপারিশ করা হয়েছে।