চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে রাতের আঁধারে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির কারণে প্রায় এক মাস ধরে বিদ্যুৎহীন দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, জামে মসজিদের মুসল্লিদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যথাযথ উদ্যোগ না নেয়ায় এ দুরবস্থায় দিনাতিপাত করছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মুহুরী প্রজেক্ট সড়কের পাশে নন্দনপুর ও দেওয়ানপুর এলাকার মাঝামাঝি পল্লী বিদ্যুতের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ২৫ কেভির একটি ট্রান্সফর মারচুরি হয়ে যায়। এর ফলে পাশের বদিউল আলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদে জাহানারা ও পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের বসতঘরে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় ভুক্তভোগীরা তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। খুব কষ্টে শ্রেণিকক্ষে বসে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। অনেকে গরমের কারণে স্কুলে আসছে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী উম্মে নাহার জানান, স্কুলের সংযোগকৃত বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পর এখন পর্যন্ত স্কুলে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ আমরা শিক্ষকরা খুব কষ্টে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছি। অতিদ্রুত যথাযথ উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রান্সফরমার সংযুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: খোকন মিয়া জানান, ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় আমরা মসজিদে শান্তিতে নামাজ আদায় করতে পারছি না। এছাড়া সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে বাড়িতে গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা শান্তিতে ঘুমাতে ও লেখাপড়া করতে পারছে না। আমি একাধিকবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেছি। তারা ২৫ কেভির ট্রান্সফরমারের জন্য যে পরিমাণ টাকা চাচ্ছে, এত টাকা বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে বারইয়ারহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো: হেদায়েত উল্লাহ বলেন, ‘ওই এলাকায় ট্রান্সফরমারটা দ্বিতীয়বার চুরি হয়েছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ট্রান্সফরমারের পূর্ণ মূল্য গ্রাহকদের বহন করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা বিচ্ছিন্নভাবে আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। আমরা তাদের ট্রান্সফরমারের টাকার কথা বলেছি। কিন্তু তাদের সমন্বয়হীনতার কারণে এটা এখনো সমাধান হয়নি। আমরা অফিসিয়ালভাবে তাদেরকে চিঠি ইস্যু করেছি।’





