নিজস্ব প্রতিবেদক

সেপ্টেম্বরে দেশে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং রোগটি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৩৪ হাজার ৭৭৪ জন (প্রায় ৪৪ হাজার)। অপর দিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের। ডেঙ্গুর পিক টাইম জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধরা হলেও এ বছর অক্টোবর মাসেও ডেঙ্গু রোগে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা সেপ্টেম্বরের মতোই থাকবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে বৃষ্টির ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে। এ কারণে শরতের শেষ সময়েও দেশে থেমে থেমে বেশ ভালোই বৃষ্টি হচ্ছে বলে ডেঙ্গু জীবাণুবাহী এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ রয়ে গেছে। একই কারণে, চিকিৎসকরা মনে করছেন, এই অক্টোবরেও সারা দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ অনেকটা সেপ্টেম্বরের মতোই থাকতে পারে। উল্লেখ্য, এডিস মশার প্রজননের জন্য থেমে থেমে বৃষ্টি, ২৮ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত আদর্শ তাপমাত্রা। বাংলাদেশে তাপমাত্রা এখনো ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকছে। 
ডেঙ্গু চিকিৎসায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য সরকারি কিছু গাইডলাইন দেয়া আছে। এর মধ্যে রোগীদের জন্যও কিছু গাইডলাইন রয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: এ কে এম সাজেদুর রহমান বলেন, ডেঙ্গুতে পেটে তীব্র ব্যথা হলে, বারবার বমি হলে বিশেষ করে এক ঘণ্টার মধ্যে তিনবার বমি হলে, শরীরে পানি জমা হলে (ফুসফুস, পেট ও হার্টের চার পাশে), মুখ-নাক-মাড়ি ও প্র¯্রাবের সাথে রক্তপাত হলে, অস্বাভাবিক আচরণ করলে (বিরক্তি, ঘুম ঘুম ভাব, স্বাভাবিকের চেয়ে কম সাড়া দেয়া), লিভার বড় হয়ে গেলে এবং পরীক্ষায় রক্তের হেমাটোক্রিট বাড়তে থাকলে রোগী হাসপাতালে অবশ্যই ভর্তি করতে হবে। তবে পরীক্ষায় ডেঙ্গু প্রমাণিত হলে শুরুতেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। তাদের উচিত হবে একজন ডাক্তারের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ সেবন করতে হবে।  
এ দিকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু রোগে এক হাজার ৯৪৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হলেও মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে দুইজন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের হাসপাতালে একজন করে মারা গেছে।    
একই সমেয় দেশে যে এক হাজার ৯৪৮ জন নতুন করে ভর্তি হয়েছে তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৭১৯ জন ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৪৩ জন, বরিশাল বিভাগে ২১২ জন, খুলনা বিভাগে ২৪৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২১১ জন, রংপুর বিভাগে ৯৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী নতুন করে ভর্তি হয়েছে। 
ঢাকা বিভাগের রাজধানী ঢাকার বড় হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুর বেশি রোগী ভর্তি হয়ে থাকে। কারণ, এখানে ঢাকার বাইরে থেকে প্রচুর রোগী আসে। বাইরে থেকে আসা রোগীদের বেশির ভাগই বেশ জটিলতা নিয়েই আসে।