নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে অনেক শিল্পকারখানা ঠিকমতো চলছে না। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী কিছু দিনের মধ্যে কয়েক লাখ নারী ও পুরুষ শ্রমিক বেকার হবে। গ্রাম থেকে আসা এসব শ্রমিক বিশেষ করে নারীরা চাকরি হারিয়ে বিপথে চলে গেলে এর দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’ সাইফুল আলম খান মিলন এমপি গতকাল ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এফডিইবি) আয়োজিত, ‘কারিগরি শিক্ষা ধ্বংসের চক্রান্ত, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ন্যায্য অধিকার হরণের অপচেষ্টা এবং দেশের প্রকৌশল খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির অপতৎপরতা বন্ধে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। বৈঠকে তিনি আরো বলেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের গ্রেড নিয়ে যে সমস্যাটা আছে, তা আগামী সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ডিপ্লোমা ও বিএসসি যাদের যে রকম যোগ্যতা সেই অনুযায়ী গ্রেড পাবেন, এটি নিয়ে বাড়াবাড়ির কোনো কারণ দেখি না। আমরা ডিপ্লোমা ও বিএসসি এই দুই ধরনের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে বসব।
এফডিইবির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও আইডিইবির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো: আব্দুছ ছাত্তার শাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো: শহিদুল ইসলাম, রাজশাহীর নেসকো ডিপ্রকৌসর প্রকৌশলী ড. দেওয়ান মো: শাহ আলম এবং এফডিইবির সহসভাপতি ও আইডিইবির যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা মিজানুর রহমান, আইডিইবির উপদেষ্টা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার ঘোষাল, প্রকৌশলী শহীদুল হক ডাকুয়া প্রমুখ।
অধ্যাপক আব্দুল আজিজ বলেন, দেশে এখন মূল সমস্যা কর্মসংস্থান নিয়ে। শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকাল পিয়ন পদে চাকরিতেও মাস্টার্স ডিগ্রি পাস করে আবেদন করছে।
মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছা করেই সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সাংবিধানিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে এই সরকার আওয়ামী আমলের আইনটিই বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
বৈঠকে বক্তারা কারিগরি শিক্ষা ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দশম গ্রেডভুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বিদ্যমান নিয়োগ কাঠামো পরিবর্তন করে তা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য উন্মুক্ত করা হলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থান, পদোন্নতি ও পেশাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। একই সাথে কারিগরি শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা- উভয় পর্যায়ের প্রকৌশলীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ, কর্মপরিধি ও সরকারি জনবল কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় রেখে ভারসাম্যপূর্ণ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। বৈঠক থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নির্ধারিত পদ ও কর্মক্ষেত্র সংরক্ষণ, বিদ্যমান নিয়োগ কাঠামো অনুসরণ, আটকে থাকা নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন এবং পদোন্নতি ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।





