বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণ করা জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে হারতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হরেন রায়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক বছর আগেও ওই স্থানে কাঠের দোকানঘর ছিল। বর্তমানে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। তবে হরেন রায়ের ছেলে বরুণ রায়ের দাবি, তারা জায়গাটি কিনেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হারতা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একটি পাকা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জায়গাটি পাউবোর অধিগ্রহণ করা জমির অন্তর্ভুক্ত। তাদের অভিযোগ, জামবাড়ি থেকে সুইজগেট পর্যন্ত পাউবোর অধিগ্রহণ করা জমির বিভিন্ন অংশে দোকান, টিনের ঘর ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বাজারসংলগ্ন খালের অংশ মাটি ও বালু দিয়ে ভরাটেরও অভিযোগ রয়েছে।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৯৮৬ সালে হারতা মৌজায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ১৯৮৮ সালে ওই জমিতে মাটি ফেলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির সুবিধা ভোগ করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাউবোর জমির পাশাপাশি হারতা বাজারের উত্তর ও দণি পাশে সন্ধ্যা নদীর শাখা খালের কিছু অংশও দখল হয়েছে। খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি চলাচলের পথ সঙ্কুচিত হচ্ছে।
সাবেক চেয়ারম্যান হরেন রায়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তার ছেলে বরুণ রায় বলেন, ‘আমরাই সম্পত্তি কিনেছি।’ সরকারি সম্পত্তি কীভাবে কেনা হয়েছে এবং এর বৈধ কাগজপত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি আর মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
একই এলাকায় পাউবোর জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইতালি প্রবাসী ও সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আজিজুল সরদারের বিরুদ্ধেও। তার স্বজন আসাদ সরদার দাবি করেন, আজিজুল ২৭ শতাংশ জমি ৩৮ লাখ টাকায় কিনেছেন। পাউবোর অধিগ্রহণ করা জমি কিভাবে কেনাবেচা হয়েছে জানতে চাইলে তিনিও ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। আজিজুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানুন বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। সরেজমিন পরিদর্শন করে বিষয়টি যাচাই করা হবে। সরকারি জমিতে অবৈধ দখল বা স্থাপনা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বরিশাল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরির কাজ চলছে। শিগগিরই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
পাউবোর জমিতে পাকা ভবন





