ভোলা জেলা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় উপজেলা লালমোহন। নদীবেষ্টিত এ জনপদে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বিকাশ ঘটেছে পোলট্রি শিল্পের। খামার গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক উদ্যোক্তা, কমেছে বেকারত্ব। তবে খাদ্যের চড়া দাম, রোগের প্রকোপ এবং প্রাণিসম্পদ দফতরের সঠিক তদারকির অভাবে ােভ বাড়ছে খামারিদের মাঝে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মুরগির খামার গড়ে উঠেছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব খামারের ডিম ও  গোশত সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। রমাগঞ্জ ইউনিয়নের খামারি হাজী আব্দুল মালেক প্রায় ২০ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন ১৫ হাজার লেয়ার মুরগির খামার। দিনে উৎপাদন ৮ থেকে ১০ হাজার ডিম, কাজ করছেন ১০ জন কর্মী।
তিনি বলেন, পোলট্রি শিল্প আমাদের স্বাবলম্বী করেছে ঠিকই, কিন্তু মুরগির খাদ্যের চড়া দাম ও ওষুধের খরচে নাভিশ্বাস উঠছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, গত ১৫ বছরেও প্রাণিসম্পদ দফতরের কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ পাইনি। খামার পরিদর্শনেও আসেন না কেউ। একই ধরনের অভিযোগ জানান উপজেলার খামারি খায়রুল হাসান কাঞ্চন, হেলাল উদ্দিন মোল্লা ও আবু তাহেরসহ অনেকে। প্রতিদিন বিভিন্ন খামারে মরে যাচ্ছে মুরগি। সরকারি কারিগরি সহায়তার অভাবে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে বেসরকারিভাবে ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাদের। ফলে কাক্সিক্ষত লাভ পাচ্ছেন না খামারিরা।
উদ্যোক্তারা জানান, পোলট্রি শিল্প স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে এ শিল্পের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সরকারকে অবিলম্বে এগিয়ে আসতে হবে। সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার তদারকি, রোগ প্রতিরোধে পরামর্শ ও বাজার ব্যবস্থাপনার সুরাহা চান তারা।
লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশিদ জানান, নিয়মিত খামার তদারকি ও রোগবালাই প্রতিরোধে পরামর্শ দেয়া তাদের দায়িত্ব। তবে তীব্র জনবল সঙ্কটের কারণে খামারগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।