বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রী ও সচিবদের সাথে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে তাকে তলব করে সতর্ক করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। 
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ দাবিতে দলটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে। এ সময়  দাবি মানতে সরকারকে ১৫ দিনের আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফটকে ঘেরাও কর্মসূচি পালনকালে মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত দাবিনামা জমা দেয়া হয়।
এতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘অপতৎপরতা বন্ধ না হলে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে মর্মে হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে তলব করে সতর্ক করুন। ভারতের সাথে সম্পাদিত সব অধীনতামূলক চুক্তি, প্রটোকল, সমঝোতা স্মারক ও অন্যান্য বোঝাপড়ার পূর্ণ তালিকা জনসমে প্রকাশ ও বাতিল করুন। বাংলাদেশের প্রকৃত চাহিদা ও শুষ্ক মৌসুমের বাস্তবতার ভিত্তিতে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন এবং তিস্তাসহ অন্যান্য অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে  চূড়ান্ত করুন। দাবিনামায় বলা হয়েছে, সব প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্রের সাথে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, অহস্তপে ও স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে। প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থের বিনিময়ে হতে পারবে না। 
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দাবিনামা নিয়ে যান জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমেদ ও বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ। 
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির কার্যালয়ে নেই জানিয়ে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিখিত দাবিনামা গ্রহণ করেন।
এ দিকে জাতীয় প্রেস কাবের সামনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও পূর্ব সমাবেশ থেকে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ আর বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো ধরনের ভারতীয় দাবিদার বিনা প্রতিরোধে মেনে নেয়া হবে না। প্রয়োজনে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
ভারতীয় হাইকমিশনারের অপতৎপরতা বন্ধের দাবি তুলে খোমেনী ইহসান বলেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী একজন কূটনীতিকের কাজ কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। একইসাথে আয়োজক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তপে না করা। অথচ কূটনীতিকের ভূমিকার বদলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তার এমন চলাফেরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রশাসনিক স্বাধীনতার প্রতি অবমাননাকর ও কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী। 
সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত আমীন, মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম, প্যান ইসলামী মুভমেন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া, আগ্রাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাঈন উদ্দীন, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, সহকারী সদস্য সচিব আবদুস সালাম ও বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ প্রমুখ।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেনÑ নবাব সলিমুল্লাহ অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান মো: আবদুল জব্বার,  জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ, সদস্য মো: সাইদুল ইসলাম ও সাকিব সামিন, শাহ নাজমুল হাসান ফেরদৌস, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব মো: আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি।