গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর জালিয়াতি, বকেয়া পরিশোধ না করে ফ্ল্যাট আত্মসাৎ এবং জমিদাতার সাথে যোগসাজশে বহুতল ভবন দখল করে আবাসন ব্যবসায়ীকে বিতাড়িত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ‘সেবা কনস্ট্রাকশন লি.’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: খোরশেদ আলম বাদি হয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বাদি খোরশেদ আলমের অভিযোগ, বিবাদি এ এস এম নাজমুল হক মূলত নামমাত্র বা বিনা পুঁজিতে ব্যবসা করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নাজমুল হক চেয়েছেন ‘কইয়ের তেল দিয়ে কই ভাজা’র মতো আমার টাকায় ফ্ল্যাট নির্মাণ করিয়ে নিজে বসে বসে সুবিধা নেবেন। তাই তিনি প্রথমে তিন কোটি ৩২ লাখ টাকা মূল্যে ১০টি ফ্ল্যাট ক্রয়ের চুক্তি করেন। শর্ত ছিল এককালীন ৫০ লাখ টাকা বায়না দেয়ার; কিন্তু তিনি তা না দিয়ে দুই লাখ বা তিন লাখ টাকা করে বহু কিস্তিতে ভেঙে ভেঙে বায়নার টাকা পরিশোধ করেন। এভাবে বছরের পর বছর সময় নষ্ট করে তিনি আমাকে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত করেন। তিনি হয়তো আশা করেছিলেন, আমি নিজের খরচে সব কাজ শেষ করলে তিনি ফ্ল্যাটগুলো বিক্রি করে লাভ নেবেন। কিন্তু বকেয়া না পাওয়ায় নির্মাণ কাজ থমকে গেলে তিনি আগের চুক্তি সংশোধন করে তিনটি ফ্ল্যাট ও দু’টি পার্কিং ক্রয়ের নতুন চুক্তি করেন।’
জানা যায়, নতুন চুক্তি অনুযায়ী তিনটি ফ্ল্যাট ও কার পার্কিং বাবদ মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয় এক কোটি দুই লাখ টাকা। এর মধ্যে বিবাদি নাজমুল হক ৫৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং তাকে দু’টি ফ্ল্যাটের দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়; কিন্তু বাকি টাকা তিনি আর পরিশোধ করেননি। উল্টো তার কাছে রক্ষিত মূল চুক্তিপত্রের সুযোগ নিয়ে তিনি অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধের পর বাকি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তিনি চুক্তিপত্রের মূল কপিতে বাদির অনুমতি ছাড়াই অতিরিক্ত তিনটি কলাম যুক্ত করেন। এরপর সেখানে নিজের ইচ্ছেমতো হিসাব বসিয়ে এবং বাদির স্বাক্ষর জাল করে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ দেখান।
খোরশেদ আলম আরো জানান, পূর্বে টঙ্গী পশ্চিম থানায় বিবাদি চুক্তিপত্রের যে ফটোকপি জমা দিয়েছিলেন, সেখানে বাকি টাকা পরিশোধের কলামে বাদির কোনো স্বাক্ষর ছিল না; কিন্তু পরবর্তীতে জালিয়াতি করে ওই অতিরিক্ত কলামের পাশে বাদির স্বাক্ষর বসানো হয়। বাদি খোরশেদ আলমের দাবি, নাজমুল হক বকেয়া টাকা না দিয়ে উল্টো সাফ-কবলা দলিল সম্পাদন ও শেষ ফ্ল্যাটটির দখল নিতে চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় বিবাদি নাজমুল ভবনের ল্যান্ড ডোনার (জমির মালিক)-এর সাথে যোগসাজশ করে তাঁকে ব্যবসায়িকভাবে বিতাড়িত করা এবং সদ্য নির্মিত ‘আল আকসা টাওয়ার’ আত্মসাৎ করার চক্রান্ত শুরু করেছেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, কোম্পানি একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেনি, তবুও অভিযুক্তরা ভবনের সামনে অপপ্রচারমূলক ব্যানার টাঙিয়ে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছেন। একই সাথে পুরো ভবনের নির্মাণ কাজ ও হস্তান্তরে বাধা দিচ্ছেন, যার ফলে ব্যবসার অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। আদালতে মামলা দায়েরের পর ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে হয়রানি করতে এবং স্বাক্ষর জালিয়াতি ও চুক্তি লঙ্ঘনের দায় থেকে নিজেকে বাঁচাতে নাজমুল মিথ্যা অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন।
এ দিকে স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অপপ্রচারের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিবাদি এ এস এম নাজমুল হক। তিনি বলেন, ‘খোরশেদ আলমই বায়নাপত্রের শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। এজন্য আমি তার বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলা করেছি। আমি উল্টো তার কাছে এখনো ৭৮ লাখ টাকা পাব।’