এফ এ আলমগীর চুয়াডাঙ্গা
ঐতিহ্যবাহী চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় গেলে এখন চোখে পড়ে ধুলোবালি আর ইট-পাথরের স্তূপ। ১৮৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক রেলস্টেশনটি আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হলেও ধীরগতির কারণে তা এখন যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার দেড় বছর পরও কাজ শেষ হয়নি। পর্যাপ্ত বসার জায়গা, শৌচাগার ও বিশ্রামাগার না থাকায় প্রতিদিন হাজারো যাত্রীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আরটিসি-এসএইচজে জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সাথে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ১০ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য নতুন দ্বিতল ভবনটির কাজ ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ১২ হাজার ৪৭০ বর্গফুট আয়তনের এই ভবনে আধুনিক শেড, পার্কিং ও ২৫ ফুট প্রশস্ত প্ল্যাটফর্ম থাকার কথা। তবে নির্ধারিত মেয়াদের বেশ পর পর্যন্ত প্লাস্টার, টাইলস ও রঙের কাজ সম্পন্ন হয়নি।
সরজমিনে দেখা যায়, নতুন ভবনের ফিনিশিং কাজ আটকে আছে। পুরনো ভবন ভাঙাচোরা হওয়ায় প্ল্যাটফর্মের বাইরে অস্থায়ী টিকিট কাউন্টার বসানো হয়েছে। এতে দূর-দূরান্তের অচেনা যাত্রীরা বিপাকে পড়ছেন। স্টেশনের দাফতরিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
পৌর এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, নতুন ভবনকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু কাজের ধীরগতিতে প্রবীণ মানুষ, নারী ও শিশুরা একটু বসার জায়গাও পাচ্ছেন না। অন্য এক যাত্রী আবদুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিচ্ছন্ন টয়লেট ও বসার ব্যবস্থা রেলস্টেশনের মৌলিক সেবা। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এভাবে যাত্রীদের বঞ্চিত রাখা উচিত নয়।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, সীমিত জায়গায় কষ্ট করে দাফতরিক কাজ চালাতে হচ্ছে। ভবন চালু হলে এই সঙ্কট আর থাকবে না। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নকশাগত জটিলতার কারণে মাঝে কাজ বন্ধ ছিল। এখন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে পুরোদমে কাজ চলছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি কাজ সম্পন্ন হতে পারে।