কামাল হোসেন ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা মৌজায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে জমি বেচাকেনা, নামজারি (খারিজ), খাজনা আদায় ও ব্যাংক ঋণ গ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ১৯৯৬ সালের বিআরএস জরিপ দীর্ঘ সময় পার হলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই মৌজার অন্তত ২০ হাজার জমির মালিক।
ভূমি কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালে উপজেলায় বিআরএস জরিপের কাজ শুরু করে ভূমি মন্ত্রণালয়। ১৯৯৬ সালে গাবসারা ইউনিয়নের ১৬টি সিটের নকশার কিস্তার কাজ শেষ করে মাঠ পরচা বিতরণ করা হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে প্রায় ১০ হাজার খতিয়ানের ওপর ৩৩০টি ধারা অনুযায়ী আপত্তি জমা পড়ে। ২০১১ সাল পর্যন্ত শুনানি শেষে সেসব আপত্তি নিষ্পত্তি করা হয়। এ সময় প্রক্রিয়াগত কারণে ১৬টি সিট ভেঙে ১৭টি সিট তৈরি করায় জমি পরিমাপে কিছু অসঙ্গতি দেখা দেয়। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বিচারিক প্রক্রিয়ায় এটি সমাধানের আশ্বাস দিলেও তা ঝুলে থাকে।
পরবর্তী সময়ে কোনো সমাধান না করেই চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের এক আদেশে আগের জরিপ কার্যক্রম স্থগিত করে পুনরায় নতুন ডিজিটাল জরিপের নির্দেশ দেয়া হয়। এ আদেশের পর থেকে স্থানীয় জমির মালিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
খাজনা ও খারিজ রশিদ ছাড়া জমি বেচাকেনা ও হস্তান্তর বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চিকিৎসার খরচ বা জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে পারছেন না জমি মালিকরা। বাধ্য হয়ে ভূমি মালিকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। নতুন আদেশের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ১৯৯৬ সালের সম্পন্নকৃত জরিপটিই বহাল রেখে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করার দাবি তাদের।
গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান শাহআলম শাপলা বলেন, জনভোগান্তি লাঘবে দ্রুত আগের জরিপ বহাল রেখে ভূমিসংক্রান্ত সেবা চালু করা জরুরি। ভূঞাপুর ইউএনও মাহবুব হাসান বলেন, বিষয়টি বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।