রংপুর ব্যুরো
জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, ঢাকার রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়ার সাথে জড়িত মিষ্টিকে এমপি পদ সরিয়ে দিয়ে সরকার আইওয়াশ করেছে। তাকে গ্রেফতার বা বহিষ্কার করা হয়নি। অথচ বিমানবন্দরের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেফতার করে সরকার দুই-তৃতীয়াংশের মেজরটির ভয়ঙ্কর পথে হাঁটছে।
গতকাল রংপুর মহানগর ও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় রংপুর বিভাগ থেকে নির্বাচিত ১৪ জন এমপি উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন-মাহবুবুর রহমান বেলাল (রংপুর-৩), গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫), রায়হান সিরাজী (রংপুর-১), আব্দুস সাত্তার (নীলফামারী-১), আল ফারুক আব্দুল লতিফ (নীলফামারী-২), ওবায়দুল্লাহ সালাফী (নীলফামারী-৩), আব্দুল মুত্তাকিম (নীলফামারী-৪), আনোয়ারুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম-১), মোস্তাফিজুর রহমান (কুড়িগ্রাম-৪), মাজেদুর রহমান (গাইবান্ধা-১), আব্দুল করিম (গাইবান্ধা-২), নজরুল ইসলাম লেবু (গাইবান্ধা-৩), মো: আব্দুল ওয়ারেছ (গাইবান্ধা-৫)। এছাড়াও রংপুর মহানগর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি এনামুল হকসহ মহানগর ও জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় এটিএম আজহার অভিযোগ করেন, আজকে দুই-তৃতীয়াংশের কারণে ভয় দেখিয়ে আজকে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার যে পথে হাঁটছে, এ পথ তাদের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর, বিপদের পথ। এ বিপদ তাদেরকে কোথায় নিয়ে যাবে-আমি তাদেরকে চিন্তা করার জন্য অনুরোধ করব। উল্টো ওমরাহ করে আসার সময়, নিজস্ব বিমানবন্দরে তিন-চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পরেও লাগেজ পাওয়া গেলো না। আমাদের আবেগের জিনিস, জমজমের পানি নিয়ে নিয়ে কী তুলকালাম কাণ্ড হয়ে গেল! আমরা দেখলাম যিনি এর প্রতিবাদ করলেন, তদন্ত করার আগেই তার বিরুদ্ধে মামলা হলো। তাকে গ্রেফতার করা হলো। আমরা এর তীব্র ধিক্কার ও নিন্দা জানাই।
পরে তিনি রংপুর বিভাগের উন্নয়ন বঞ্চনা ও বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এ অঞ্চলকে একটি আধুনিক, উন্নত ও বৈষম্যহীন বিভাগে রূপান্তর করতে ২১ দফা দাবি জানান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, খনিজসম্পদ উত্তোলন, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আধুনিকীকরণ, গাইবান্ধায় দ্বিতীয় যমুনা সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রত্যেক উপজেলায় রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট পাকাকরণ, বিভাগের সব উপজেলার মহিলা কলেজকে সরকারিকরণ, সব জেলায় নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, প্রতিটি জেলায় আইটি পার্ক স্থাপন, চিনিকলসহ সব বন্ধ কলকারখানা চালু, গ্যাস নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ, ইপিজেড স্থাপন, বিএসটিআইর স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন, রংপুর ও দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত এবং চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি ও দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা, দিনাজপুরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন যুগোপযোগী বিষয় চালু করা, সৈয়দপুর টেক্সটাইল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন।











