নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভোগান্তি ও দুর্নীতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রিপেইড মিটার বাতিল এবং আগের ডিজিটাল মিটার ফিরিয়ে দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি।
বৈঠকে উত্থাপিত অন্য দাবিগুলো হলো- বিদ্যুতের মূল্য কমানো এবং বিদ্যুৎ খাতের আয়-ব্যয়, বরাদ্দ ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ; প্রিপেইড মিটারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃবৃন্দের নামে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার; বিদ্যুৎ খাত ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের চক্রান্ত প্রতিরোধ এবং বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
এই গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক এড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল। বৈঠক পরিচালনা করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব এড. পলাশ কান্তি নাগ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক কাফি রতন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ, কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের কমরেড মঞ্জুর আলী মিঠু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মোসাইদা ঋতু। পাশাপাশি বৈঠকে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে শতাধিক গ্রাহক ও অতিথিরা অংশ নেন। 
বৈঠকে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ এবং সরকারও দরিদ্র। তবে কিছু মন্ত্রী বা প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে নিজস্ব স্বার্থ হাসিল করে ধনী হচ্ছেন। দেশে সাড়ে সাত লক্ষ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হলেও এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঘাটতি বাজেট। যার অর্থ সংস্থানের কোনো সুনির্দিষ্ট উপায় সরকারের কাছে নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি আদায় করার পরিকল্পনা করা হলেও অতীতের পারফরম্যান্সের কারণে তার নিশ্চয়তা নেই।