ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ থাকলেও থামছে না ঝটিকা মিছিল। নগর থেকে উপজেলা-বিভিন্ন সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ এমনকি পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনেও হঠাৎ মিছিল বের করে দ্রুত সরে যাচ্ছেন সংগঠন দু’টির নেতাকর্মীরা। পরে এসব মিছিলের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সমাজমাধ্যমে।
গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের অন্তত কয়েক ডজন মিছিলের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিছিলের ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিক এক মাসে। গত এক মাসেই চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের অন্তত ৪০টিরও বেশি মিছিল হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পেজের পোস্ট এবং নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত  মাসে নগর ও উপজেলায় অন্তত ২৮টি মিছিল হয়েছে। জুলাই-আগস্ট মাসে চট্টগ্রাম নগরের পঁাঁচলাইশে ছয়টি, কোতোয়ালিতে পাঁচটি, ডবলমুরিংয়ে দু’টি এবং খুলশী, চকবাজার ও বন্দরে একটি করে মিছিলের তথ্য তখন পাওয়া যায়।চট্টগ্রামে ঝটিকা মিছিলের ধারাবাহিকতার একটি বড় উদাহরণ ২৪ এপ্রিল। ওই দিন নগরের জিইসি মোড়, ষোলশহর ২ নম্বর গেট এবং নিউমার্কেটের পলোগ্রাউন্ড এলাকায় তিনটি পৃথক মিছিল হয়। একটি মিছিলে ৪০-৫০ জন, আরেকটিতে ৬০-৭০ জন এবং তৃতীয় মিছিলেও প্রায় ৬০-৭০ জন অংশ নেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। পরদিন ২৫ এপ্রিলও নগরের মেহেদিবাগ, পলোগ্রাউন্ড এবং ২ নম্বর ষোলশহর কর্ণফুলি মার্কেটের সামনে তিনটি ঝটিকা মিছিল হয়। এসব ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 
এ ছাড়া পটিয়ার মনসা বাদামতল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে, চন্দনাইশের হাশিমপুর ও দোহাজারী পৌরসভার সীমান্তবর্তী পাঠানিপুল এলাকায়, নগরের জিইসি মোড় এলাকায়, আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনীতে, সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ির হাফিজ জুট মিল এলাকায়, নগরের চান্দগাঁও এলাকায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় ঝটিকা মিছিল ও মশাল মিছিলের খবর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ফেইসবুক পেইজ থেকে প্রচার করে। 
জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী নওফেল, সাবেক নগর ছাত্রলীগের সভাপতি রনি, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর বাবর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক সাইফুল হাসান টিটু এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সজিব উদ্দিনের নির্দেশে এসব মিছিল করা হচ্ছে। 
এ দিকে একের পর এক মিছিল হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নেতাকর্মীরা কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করছেন। পরে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে তাদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘটনাস্থল গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ স্থাপনার কাছাকাছি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগাম নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 
নিষিদ্ধ দলের ঝটিকা মিছিলের পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের বক্তব্য, মিছিলের ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তবে একের পর এক নতুন এলাকায় একই ধরনের মিছিল হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে-মিছিলের আগে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি কতটা কার্যকর?