রাজশাহী ব্যুরো
ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলকে শুধু দোয়া-ইউনুসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বলিষ্ঠ নেতৃত্বে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। আগামীতে জাতীয় সংসদে আসার মতো যোগ্যতা ওলামা দলের নেতাদের রয়েছে।
শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘আমি দেশের প্রতিষ্ঠাকালীন সেই ১৯৭৯ সাল থেকেই বিএনপির সাথে আছি। রাজশাহী জেলা ও মহানগর ওলামা দলের এত বড় সম্মেলন এবং এত স্পষ্টবাদী বক্তব্য আমি এর আগে কখনো শুনিনি। ওলামা দলকে আর শুধু দোয়া-ইউনুসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না-সেটা তারা করবেই, কিন্তু বলিষ্ঠ নেতৃত্বে যেন তারা আসতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার ভাইয়েরা আগামীতে জাতীয় সংসদে আসার মতো যোগ্যতা রাখেন। আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে মিটিংয়ে বলব, ওলামা দল এখন সুন্দর ও শক্ত অবস্থানে আছে। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে তারা রুখে দাঁড়িয়েছে এবং ঈমানি শক্তি দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।’
ভূমিমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন এ দেশের ‘রাখাল রাজা’ ও আপসহীন জনপ্রিয় নেতা। তার আদর্শে গড়া বিএনপির অঙ্গসংগঠন ওলামা দল চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সুসংগঠিত শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা সবাই ইসলামের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। তাই আমাদের দিল্লির শাসন দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমাদের নেতা তারেক রহমান, হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই ফাইনাল। ধর্মকে ব্যবহার করে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চেপে বসেছে, তাদের কাছ থেকে আমাদের প্রকৃত আলেম-ওলামাদের সম্মান ও অধিকার আমরা ফিরিয়ে দেবো।’
মিজানুর রহমান মিনু আরো বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, নিরাপদ ও উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে থেকেই যারা আমাদের বুকে আঘাত করে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট ও আগ্রাসনবাদী দিল্লি সরকারের প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেছিল, তারা বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থান নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করেছিল। আমরা পল্টনের মিটিংয়ে দেখেছি কীভাবে হামলা চালানো হয়েছিল। হেলমেট পরে যারা সেদিন হামলা চালিয়েছিল, তারা আজ বড় বড় পদে বসে আছে। কিন্তু সত্য চিরসত্য।’
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে যেমন ষড়যন্ত্র করে ফ্যাসিস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আগামীতে কোনো চক্রান্তই আর সফল হবে না। বাংলাদেশের জমিন আল্লাহর জমিন। কোনো আগ্রাসী শক্তি-যাদের জন্ম দিল্লিতে বা যারা দিল্লিতে আছে- তাদের কোনো স্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।’
রাজশাহী জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা মো: তাজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহসম্পাদক শফিকুল হক মিলন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ এবং রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা।





