চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা অস্থায়ী গরু বাজারের দরপত্র ক্রেতাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে কারসাজির অভিযোগে দরপত্র বাতিল করে পুনঃ দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) বেলা ৩টার দিকে দরপত্র মূল্যায়ন সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমার উপস্থিতিতে সিলগালা দরপত্র বাক্স খুলে মাত্র একটি শিডিউল পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সিডিউলটি জমা দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর কাজী বাবুল।

জানা যায়, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বাজার ইজারার দরপত্র আহ্বান করে ১৫ মে থেকে ২১ মে বিকেল পর্যন্ত এবং সে হিসেবে দরপত্র বিক্রয়ও করা হয়। ২২ মে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিডিউল ড্রপ করার সময় নির্ধারণ করা হয়। দুপুর আড়াইটায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমার সভাপতিত্বে সকলের উপস্থিতিতে দরপত্রের বাক্স খোলা হয়।

এসময় বিক্রিত ১২টি শিডিউলের মধ্যে মাত্র একটি শিডিউল জমা হওয়ায় এবং শিডিউল জমাদানকারী যথা সময়ে উপস্হিত না হওয়ায় দরপত্র বাতিল করে পুনঃ দরপত্র আহ্বান করা হয়।

এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো: জামাল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকের বলেন, ‘পৌরসভার অস্থায়ী গরু বাজার ইজারা দেয়ার জন্য ৭৪ হাজার ৭৫০ টাকায় দরপত্রের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ৭৫ হাজার টাকায় মাত্র একটি শিডিউল জমা পড়ে। এ ক্ষেত্রে আমাদের মনে হয়েছে কোনো একটি পক্ষ অথবা দরপত্র ক্রেতারা পূর্ব যোগসাজশের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে সম্মিলিতভাবে তারা এ ভূমিকা গ্রহণ করে। এই কারচুপির মাধ্যমে সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় এই দরপত্র বাতিল করা হলো এবং পরবর্তীতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।’

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর কাজী বাবুল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর প্রকাশ্যে এসে একমাত্র আবেদনকারী হিসেবে দরপত্র মূল্যায়ন সভায় উপস্থিত হওয়ার খবরে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আহ্বান করা উপজেলা বিভিন্ন অস্থায়ী গরুর বাজার ইজারা দেয়ার জন্য জমাকৃত দরপত্রের বাক্স উপজেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে সাংবাদিক ও ক্রেতাদের উপস্থিতিতে খোলা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জামাল হোসেন দরপত্র মূল্যায়ন শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো: নুরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম মীর হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোবায়ের আহমেদ, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, সিনিয়র সহ-সভাপতি এমদাদ উল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, সাবেক সহ-সভাপতি আবু বক্কর সুজন, কার্যকরী সদস্য আনিছুর রহমান, সাংবাদিক সানোয়ার হোসেন প্রমুখ।