রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার ও ভেকু মেশিন বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করে বিক্রির মহোৎসব চলছে। এতে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও পাকা রাস্তা হুমকির মুখে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে কিংবা অন্য যেকোনো কারণে নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীপাড়ের জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য দিকে দিন-রাত রাস্তায় বালু বোঝাই ট্রাক চলাচল করায় রাস্তাগুলোও নষ্ট হচ্ছে। বালু খেকোরা বলছেন, তারা ডিসি, ইউএনও ও ভূমি অফিস থেকে অনুমতি নিয়েই বালু উত্তোলন করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের আটপুনিয়া, তরফশাদী ও হাছিয়া গ্রাম সংলগ্ন যমুনেশ্বরী ও পায়রাবন্দ ইউনিয়নের ঘাঘট নদী থেকে বালু তুলে ট্রাকে করে উপজেলা ও উপজেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক চলাচলের কারণে ধুলাবালুতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, উঁচা বালুয়া গ্রামের ফারুক মিয়া ও পায়রাবন্দ গ্রামের প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতা দীর্ঘদিন ধরে দুইটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এ ছাড়া আটপুনিয়া গ্রামের জুয়েল ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা পলাশ মিয়া বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সবাই যদি বালু উত্তোলন বন্ধ করে তাহলে আমিও বন্ধ করে দেবো।
এ দিকে হাছিয়া গ্রামে বালু উত্তোলনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে বালু উত্তোলনকারী ফারুক মিয়া বলেন, আমি ডিসি, ইউএনও ও ভূমি অফিস থেকে অনুমতি নিয়েই বালুর ব্যবসা করছি। আপনারা খামাখা ছবি তুলছেন কেন?
বালু উত্তোলন করা ড্রেজারের পাশের জমির মালিকরা অভিযোগ করেন, জমির চার দিক থেকে বালু ও মাটি কেটে নেয়ায় তাদের জমির আল ভেঙে যাচ্ছে। এতে জমি অনাবাদি পড়ে থাকছে। তা ছাড়া বালু উত্তোলনের ফলে আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র বর্মন বলেন, নদী থেকে বালু ও মাটি কেটে পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার মতো কাজ কেউ করলে তাকে আমরা ছাড় দেবো না। বালু উত্তোলনকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।