আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আমরণ অনশন কর্মসূচিতে বসেছেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা।
গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারা এ অনশন শুরু করেন। সেখানে বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী মো: ওমর ফারুক ও মো: আবু সাঈদ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের মধ্যে ওমর ফারুক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কর্মী আবু সাঈদ। এদিন বিকেলে তাদেরকে সংহতি জানাতে যান ৫ আগস্টের পর সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানানো সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা। অভিন্ন দাবি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তারাও অনশন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন।
এদের মধ্যে আমরণ অনশনে যোগ দিয়েছেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ, সদস্যসচিব ফজলুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়ামিন সরকার, সহকারী সদস্যসচিব আশরাফুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। অনশনে সংহতি জানিয়ে অবস্থান করছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের রাজনৈতিক প্রধান মো: আনিছুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব ও সহকারী সদস্যসচিব গালীব ইহসান।
তারা বলেন, আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছর সারা দেশের মানুষকে নানাভাবে নিপীড়ন করেছে, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানে দুই হাজার তাজা প্রাণকে শহীদ করেছে। ৩০ হাজারের অধিক মানুষকে আহত করেছে। এত কিছুর পরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেনি। আমাদের দাবি, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
অনশনে বসা শিক্ষার্থী আবু সায়েদ জানান, ফ্যাসিবাদী কিংবা গণহত্যাকারী দলকে নিষিদ্ধ করার বহু ইতিহাস আছে। যারা নিষিদ্ধ করেছে, তারা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পেরেছে। আমাদের দেশের গণহত্যাকারী দলকে নিষিদ্ধ না করলে সব ত্যাগ বৃথা যাবে।তারা জানিয়েছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, সন্ধ্যায় সরেজমিন গিয়ে দেখা ওই শিক্ষার্থীরা অনশনে বসেছেন। দু’জন অসুস্থ হয়ে শুয়ে পড়েছেন। অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওমর ফারুক মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।











