এখনো বাড়েনি নদীর পানি। তবে এরই মধ্যে অবিরাম বর্ষনের ঢলে ময়মনসিংহের ত্রিশালের বালিপাড়া বাজার এলাকার অনেকটা অংশ জুড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে যেকোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, গোহাটা মাঠ, গোহাটা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও শতাধিক বাসাবাড়ি। ভাঙ্গনের প্রকোপ দেখে এমনটাই আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিও জানান তারা।
গত তিন সপ্তাহের প্রবল বর্ষণে বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ হতে গোহাটা মাঠ পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের প্রায় এক কিলোমিটার পাড় জুড়ে বড় ধরনের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ওই এক কিলোমিটারে রয়েছে বিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, গোহাটা মাঠ, গোহাটা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও শতাধিক বাসাবাড়ি। সম্প্রতি ব্রহ্মপুত্রের পাড় ঘেঁষে ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে বিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন। নদীর রেখা থেকে যার দুরত্ব মাত্র ১০০ ফুট। ভাঙ্গনরোধ ও নদীগর্ভে বিলীনের হাত থেকে বিদ্যালয়টিকে রক্ষা করতে এডিপির অর্থায়নে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২শ ফুট দৈর্র্ঘ্যরে একটি দেয়াল নির্মাণ করা হয়। সপ্তাহখানেক আগে ১০ ইঞ্চি গাঁথনির ওই দেয়ালে ফাটল ধরে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন স্লাপ স্থাপন না করলে ভাঙ্গনরোধ ও বিদ্যালয়টিকে নদীগর্ভে বিলীনের হাত থেকে কোনভাবেই রক্ষা করা যাবে না।
ভাঙ্গনের ফলে এরইমধ্যে নদীরপাড়ের বেশ অনেকগুলো গাছ উপড়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের এপাড়ের ওইটুকুতে কোন চর নেই, গভীরতাও অনেক বেশী। ওই এলাকায় অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে বসবাসকারীদের মধ্যে ভাঙ্গন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রবল ভাঙ্গনের ফলে বালিপাড়া বাজারের প্রায় শতাধিক পরিবার তাদের বসতঘরও হারাতে পারে। এছাড়া গোহাটা মাঠ ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার সামনে বিশাল ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ হতে গোহাটা মাঠ পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদে প্রায় এক কিলোমিটারে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানায় বৃষ্টিরপানির ঢলে হঠাৎ করে ব্রহ্মপূত্র নদের ভাঙ্গন দেখা দেয়। তাদের প্রত্যাশা ভাঙ্গনরোধে শ্রীঘ্রই ব্যবস্থা নেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
গোহাটা মাঠ এলাকার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির পানির ঢলে নদীর পাড়ের মাটি ধসে আমাদের ৪ টি বড় বড় গাছ ব্রহ্মপুত্রে উপড়ে পড়েছে। নদীর পানি বাড়লে ভাঙ্গনের মাত্রা বেড়ে যাবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্যদ কমিটির সভাপতি ইলিয়াস বাহার বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো রক্ষার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরী আপদকালীন কাজ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ বাদল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে বিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউপি কার্যালয়, গোহাটা মাঠ, গোহাটা হাফিজিয়া মাদ্রাসা যে কোন মুহুর্তে বিলীন হতে পারে। এ জন্য আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয়া দরকার। ভাঙনের ভয়াবহতা বেড়ে গেলে পরে সামাল দেয়া মুশকিল হবে।





