চট্টগামের মিরসরাই উপজেলার বারইয়াহরহাট পৌরসভার উত্তর বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই ধারে ফুটপাত দখল করে কাঠ বোঝাই করে রেখেছে কাঠ ও ফার্ণিচার ব্যবসায়ীরা। এর ফলে মহাসড়কের পূর্ব ও পশ্চিম উভয় দিক দিয়ে মানুষের অবাধ যাতায়াতে সৃষ্টি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা। অপরদিকে সড়কের পাশ ঘেসে চয়েস পরিবহনের বাসগুলো পার্কিং করে রাখায় এই প্রতিবন্ধিকতা দ্বিগুন হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই পথচারীদের মহাসড়কের উপর দিয়ে হাটতে হচ্ছে। এসব কারনে বারইয়ারহাট উত্তর বাজারে ইতিমধ্যে একাধিক দূর্ঘটনা সহ প্রানহানীর ঘটনা ঘটেছে।
জোরারগঞ্জ থানা, বারইয়ারহাট পৌরসভার পক্ষ থেকে একাধিকার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঠ ব্যবসায়ীরা এতে সাড়া দেয়নি। উল্টো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ফুটপাত এমনকি মহাসড়কের অনেক জায়গাও দখল করে নেয় তারা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বারইয়ারহাট উত্তর বাজারে সড়কের পূর্ব পার্শ্বে জননী, পিরামিড, আল আমিন, আরাফাত ফার্ণিচার, ছায়া টিম্বার সহ অসংখ্য ফার্ণিচার এবং কাঠের দোকান তাদের নিজস্ব জায়গার বাইরে এসে ফুটপাত এবং মহাসড়কের কিছু অংশে কাঠ বোঝাই করে রেখেছে। সেই সাথে চয়েস পরিবহনের বাসগুলোও পার্কিং করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে ফুটপাতে কাঠ রাখার কারনে ফুটপাতের অনেক জায়গায় ভেঙ্গে গেছে।
পথচারী আমজাদ হোসেন বলেন, আমি প্রতিদিন মহাসড়কের পূর্ব পাশ দিয়ে বারইয়ারহাট বাজারে যাতায়াত করি। পূর্ব পার্শ্বে যতগুলো ফার্ণিচার এবং কাঠের দোকান রয়েছে প্রত্যোকেই তাদের নিজস্ব জায়গার বাইরে এসে ফুটপাতের উপর কাঠ রেখেছে। কাঠ রাখার কারনে বোঝার উপায় নেই সড়কের পার্শ্বে ফুটপাত আছে।
বারইয়াহাট কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সোনা মিয়া মেম্বার কাঠ ব্যবসায়ী কর্তৃক ফুটপাত দখলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ইতোমধ্যে সমিতির পক্ষ থেকে একাধিকাবার মৌখিকভাবে বলা হলেও কেউ মানে না। একবার জোরারগঞ্জ থানায় কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ীকে আটক করা হলেও সবাই সেই আগের মতো চলছে। অভিযান হলে তার পরদিনই আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায় বলে জানান সোনা মিয়া মেম্বার।
তবে বারইয়াহাট বাজারের একাধিক ব্যবসায়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির এই সিন্ডিকেটের কাছে প্রশাসনও অসহায়। বারইয়ারাহাট পৌরসভা এবং থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে একাধিকবার উদ্যোন নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ফুটপাত তাদের দখলে নিয়ে যায়।
চয়েস মোটর্স প্রাইভেট লিঃ এর সভাপতি মাহবুবুল হক বলেন, আমরা চাইনা জনগনের ভোগান্তির সৃষ্টি করতে। কিন্তু বারইয়াহাট পৌর কর্তৃপক্ষ চয়েস গাড়ীর জন্য আলদা টার্মিনাল নির্মান করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে দীর্ঘ দিন। বাস টার্মিনাল হয়ে গেলে নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং করতে আমাদের কোন আপত্তি নেই।
বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন বলেন, আমি একাধিকবার কাঠ ব্যবসায়ীদের নিয়ে মিটিং করছি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা বছরের পর বছর এভাবে ফুটপাত দখল করে আছে। নিয়মিত কাঠ রাখার কারনে ফুটপাতের অনেক স্থানে ভেঙ্গে গেছে বলে জানান মেয়র।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির জানান, মানুষের চলাচলের রাস্তা ক্লিয়ার করতে ইতোপূর্বে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছিলো। ফুটপাত মানুষের হাটাচলার জন্য মুক্ত করে দিতে আবার অভিযান চালানো হবে।





