লোকটার নাম হাকিম আলী। বয়স ষাট ছুঁইছুঁই। বাড়ী মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বিশদ্রন ভাটেরচর গ্রামে, গত কয়েক বছর আগেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন স্ত্রী আর তিন সন্তান নিয়ে ছিল সুখের পরিবার তবে হঠাৎই এলোমেলো হয়ে গেল সব। দমকা হাওয়ায় ভেঙ্গে গেল থরেথরে সাজানো স্বপ্নগুলো। মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে এখন প্রায় পাগল তিনি। গত প্রায় দুইটি বছর শিকলে বাধা তার জীবনের প্রতিটা দিন।
পাগলামির কারণে বাড়ীর উঠুনের এক পাশে খোলা আকাশের নিচে তার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে পরিবার। এখানেই দিন বা রাত, রোদ বা ঝড়বৃষ্টি খোলা আকাশের নিচে রোদের দাহে তনু শুকায় আর মেঘের জলে ভিজে। চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো ভাল হয়ে যেতেন । আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় সে পথও বন্ধ তাই বাধ্য হয়ে স্বামীর হাতে পায়ে বেড়ি পড়িয়েছেন দরিদ্র স্ত্রী।
হাকিম আলীর স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম(৫০) বলেন, সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে বসুন্ধরা টিস্যু পেপার ইন্ড্রাস্ট্রিতে সে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে সে স্বামীর বাড়ীতে থাকে আর ছোট এক মেয়ে স্কুলে আর ছেলে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে , বাসায় স্বামীকে দেখার মত কেউ নেই তাই বাধ্য হয়ে স্বামীর হাতপায়ে শিকল পড়িয়ে গাছের সাথে তালা দিয়ে রাখেন তিনি।
মেয়ে হাবীবা আক্তার (১৫) জানায়, বাবার এই অবস্থা দেখে ভীষণ কষ্ট পায় কিন্তু দীর্ঘ দৃষ্টিতে থাকিয়ে থাকা ছাড়া তার আর করার কিছু নেই। বড় হয়ে চাকুরি করে চিকিৎসা করিয়ে বাবাকে ভাল করার স্বপ্ন দেখে সে।
ছয় বছর বয়সী মাদ্রাসায় পড়ুয়া একমাত্র ছেলে ইকবাল হোসেন এই বয়সে সংসারের জটিল সমীকরণ বুঝার কথা নয় তার তবে অন্য সহপাঠীদের বাবার সাথে নিজের বাবাকে মেলাতে গেলে কষ্ট পায় সে। বাবার হাতপায়ের শিকল খুলে দিলে দিতে চায় সে।
কৌতূহলবসত আমরা কথা বলি হাকিম আলীর সাথে, কথাবার্তায় যথেষ্ট সভ্য মনে হল, আমাদের বসার জন্য চেয়ার আর আপ্যায়নের জন্য চা আনার জন্য স্ত্রীকে অনুরোধ করে সে। নিজের নাম থেকে শুরু করে যতগুলো প্রশ্ন করেছি সবগুলো প্রশ্নের সঠিক জবাব দিয়েছেন।
প্রতিবেশীরা জানান, বছরের কিছু সময় ভাল হয়ে গেলেও মাঝেমাঝে পাগলামি করে সে। চিকিৎসা করাতে পারলে হাকিম আলী হয়তো একেবারে ভাল হয়ে যেতো। হাকিম আলীর চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।





