মিরসরাইয়ে বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ভাইয়ের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নের গোঁড়াতলী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত নাঈমুল ইসলামকে (২৭) ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এদিকে উঠিয়ে নেওয়ার ভয়ে ও ভাইয়ের উপর হামলা করার পর থেকে বিদ্যলয়ে যাচ্ছে না শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার।
জানা গেছে, ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তারকে (১৪) বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে একই গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে মোঃ ইউসুফ প্রায় সময় উত্যক্ত করতো। তার উঠিয়ে নিয়ে বিয়ে করবে বলে সরাসরি ও মোবাইলে হুমকি দিতো। গত মঙ্গলবার (২২ মে) বোনকে উত্যক্ত করার কারণ জানতে চাইলে ফাহিমার বড় ভাই নাঈমুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দে ইউসুফ।
ফাহিমা আক্তারের বাবা মাদবারহাট ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মুজতবা ওয়ালী বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ফাহিমা আক্তারকে প্রায় উত্যক্ত করতো বখাটে ইউসুফ। ফাহিমার সাথে দীর্ঘদিন তার (ইউসুফের) প্রেমের সম্পর্ক বলে এলাকায় সে বলে বেড়াতো। বিয়ে না দিলে সে ফাহিমাকে তুলে নেওয়ারও হুমকি দিতো। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বোনকে উত্যক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে আমার বড় ছেলে নাঈমুলকে হত্যার হুমকী দেয় ইউসুফ। গত বুধবার সন্ধ্যায় নাঈমুল ইসলাম আবুরহাট বাজারে যাওয়ার পথে ইউসুফের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করে। এসময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে যায়। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরো সার্জারী বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। হামলায় নাঈমের মাথা ও কান কেটে গেছে। তিনি আরো বলেন, এই ঘটনার পর থেকে ফাহিমা ভয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। তিনি ও তার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রাণ ভয়ে তিনি বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর সাহস পাচ্ছে না বলে জানান। এঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোঃ ইউসুফ নিজেকে ছাত্রলীগ কর্মী দাবী করে বলেন, গত ৩ বছর যাবৎ ফাহিমার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। ফাহিমার বাবা জামায়াত করায় আমার সাথে তার মেয়ের প্রেমের সর্ম্পক মেনে নিতে পারছিলোনা। এসময় তিনি প্রেমকে কেউ কি ইভটিজিং বলে কিনা এমন প্রশ্ন রাখেন।
নাঈমুল ইসলামের উপর হামলার বিষয়ে স্বীকার করে তিনি বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় কয়েকজন ছেলে নিয়ে ফাহিমার ভাই নাঈমুল ইসলাম আমাকে মারার জন্য আসে। এসময় তারা আমাকে মারতে না পারলেও তারা উল্টো আহত হয়।
ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেনা খানম জানান, বিদ্যালয় গত ১৭ মে থেকে বন্ধ রয়েছে। আগামী ২১ জুন পর্যন্ত শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হবে। তবে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ পর্যন্ত নিয়মিত কোচিং হচ্ছে। ফাহিমা আক্তারকে উত্যক্ত করার বিষয়ে কেউ আমাকে জানাইনি। আমি শনিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নেবো।
উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ুন বলেন, স্কুল শিক্ষার্থীকে উত্যক্ত করার ঘটনায় মেয়ের বাবা আজ সকালে আমাকে অবহিত করেছেন। আজ শুক্রবার স্কুল বন্ধ থাকায় আমি খোঁজ খবর নিইনি। আগামীকাল এ বিষয়ে খোঁজ নেবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল কবির বলেন, স্কুল শিক্ষার্থীকে উত্যক্ত করার বিষয়ে কেউ আমাকে জানায়নি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে তিনি এঘটনার সার্বিক খোঁজ খবর নেবেন বলে জানান।
মিরসরাইয়ে স্কুল ছাত্রীকে তুলে নেয়ার হুমকি
মিরসরাইয়ে বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ভাইয়ের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নের গোঁড়াতলী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত নাঈমুল ইসলামকে (২৭)...





