গত ২৬ মে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা গজারিয়ায় ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় চারজন মধ্য বয়সী মহিলা একসাথে হাটাহাটি করছে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় কিছুক্ষণ তাদের উপর নজর রাখা হয় ,কিছুক্ষণ পরপর তারা তাদের অবস্থান বদলাতে থাকে কখনো বাস স্ট্যান্ডের বসার বেঞ্চ কখনো বা চায়ের দোকান। শরীরি ভাষায় কি যেন বুঝাতে চায়, এর কিছুক্ষণ পর দু’জন উর্দ্ধি বয়সী তরুণ আসলো তাদের সাথে মহাসড়ক ধরে হাটতে শুরু করল মহিলাদের একজন। কিছুদূর যাবার পর ছেলে দু’জন চলে গেল আর মহিলা ফিরে এলো। খবর নিয়ে জানা যায় ইয়াবা কিনতেই এখানে এসেছিল ছেলে দুটি। মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী, ভবেরচর বাস স্ট্যান্ডের পরিবহন শ্রমিক ও দোকানীদের কথায়ও তার সত্যতা পাওয়া গেল। গজারিয়া থানার মাত্র ২০০(তিন’শ) গজ দূরেই এমন অভিনব কায়দায় চলছে ইয়াবা বিক্রি।
গজারিয়া থানা সূত্রে পাওয়া এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত ২০১৭ সালে গজারিয়া থানায় মাদক মামলা হয়েছে ১৯৭টি আর ২০১৮ সালে গত চার মাসে মাদকের মামলা হয়েছে ৭১টি অর্থাৎ ১৬ মাসে মাদকের মামলা হয়েছে ২৬৮টি, গড় হিসাব করলে প্রতি ৪২ ঘণ্টায় একটি মাদক আইনের মামলা হয় গজারিয়া থানায়। তথ্য বলেছে এসব মামলায় আটক আসামীদের প্রায় ৯০ ভাগেরও বেশী ইয়াবাসহ আটক হয়েছে। স্থানীয়রা জানান,পুলিশ আন্তরিক হলে ৪২ ঘণ্টায় নয় প্রতি ১২ ঘণ্টায় গড়ে একটি করে মাদক মামলা হবে গজারিয়া থানায়।
পরিসংখ্যান বলছে ২০১৭ সালের প্রথম চার মাসে মাদক মামলার সংখ্যা ছিল ৫৪ যা ২০১৮তে এসে তা বেড়ে হয়েছে ৭১ অর্থাৎ গত বছরের এই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭টি মামলা বেশী হয়েছে। তবে প্রশ্ন এতো আটক আর মামলার পরও কি ইয়াবা ব্যবসা কমেছে?
বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা, এতো আটক আর মামলার পরও এতোটুকু প্রভাব পড়েনি মাদক ব্যবসা আর সেবনে। পুলিশের তৎপরতার সাথে পাল্লা দিয়ে কৌশল বদল করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। আগে সড়ক পথে ইয়াবা আনা নেওয়া করা হলেও নৌ-পথে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাদে আসছে ইয়াবা। কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নৌপথে মেঘনা উপজেলায় আনা হয় মাদকের চালান সেখান থেকে গজারিয়া হয়ে যায় ঢাকাতে। মহাসড়কের এই অংশে পুলিশের তেমন তৎপরতা না থাকায় কোন প্রকার সমস্যা হয়না মাদক ব্যবসায়ীদের। এছাড়াও চারদিকে নদী বেষ্টিত গজারিয়ায় নৌপথে অন্য জেলা থেকেও আসে মাদক।
প্রশ্ন আসে পুলিশ কেন মাদক নিয়ন্ত্রণে আনছে পারছে না? তার পিছনেও আছে অনেক কারণ। অভিযোগ আছে গজারিয়া থানার অনেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং তাদের সোর্সরাই মাদক ব্যবসা করে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে গজারিয়া থানার সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার ইয়াবাসহ আটকের পর বিষয়টি বেশ জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে। অনেকের দাবী গজারিয়া থানায় থাকা অবস্থায় এসআই বিল্লালের মাদক ব্যবসায় হাতেখড়ি হয়। অভিযোগ রয়েছে আরো অনেক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যারা গজারিয়া ছেড়ে যাবার পর এখানো নিয়মিত গজারিয়ায় আসা যাওয়া করেন।
এছাড়া গজারিয়ায় মাদক ব্যবসা প্রসার লাভের পিছনের আরেক বড় কারণ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের সখ্যতা। সম্প্রতি থানায় মামলা আছে এবং এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এমন লোককেও থানায় দেখা গেছে। তার নাকি থানায় এখন অবাদ চলাচল।
খবর নিয়ে জানা যায়, মাদকসহ যারা আটক হয় তারা প্রায় সবাই মাদকসেবী বা খুদে ব্যবসায়ী রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায় সবসময়। তাই ছোট ব্যবসায়ীরা আটক হলেও অন্য লোক দিয়ে ঠিকই ব্যবসা চালিয়ে নেন রাঘব বোয়ালরা তাই তার প্রভাব পড়েনা ব্যবসায়।
বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বললেও গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হারুন অর রশিদ বলেন, পুলিশের কড়াকড়িতে আগের চেয়ে মাদক ব্যবসা কমেছে। কিছু ব্যবসায়ী আবার এই ব্যবসা ছেড়ে ভাল ব্যবসা করছেন,কিছুটা সমস্যা এখানো আছে যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।





