শার্শায় অসাধু আম ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা আম পাকাতে তাতে স্প্রে ব্যবহার করছে।
শার্শা উপজেলা সদর থেকে বাগআচড়া বাগুড়ী বেলতলা আমের বাজারের দুরত্ব প্রায় ২০ কিলো মিটার। এ বাজারে প্রতিতিন হাজার হাজার মন আম বেচা-কেনা হয়। আমের রং ভালো, পাকানো ও আম যাতে না পচে তার জন্য এখানে রাত দিন সমান তালে হাজার হাজার মন আমে স্প্রে করে মেশানো হচ্ছে ভারত থেকে চোরাই পথে আমদানি করা রাইস মিথানল, কারবাইড সালফেট, ফরমালিন সহ বিভিন্ন প্রকারের বিষাক্ত কেমিক্যাল। যা দেহের বিভিন্ন কোষ ধ্বংস করে মানুষকে দ্রুত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।
খুলনা বিভাগের বৃহত্তম এই আমের বাজারে প্রত্যেক মৌসুমে হাজার হাজার মন বিভিন্ন প্রজাতির আম ওঠে। যার বেশিরভাগই আম ঢাকা, চট্রগ্রাম ও খুলনা সহ দেশের বড় বড় শহর গুলোতে চালান করা হয়। এই বাজারে দুইশতাধীক আমের আড়ত রয়েছে। এসব আড়তেও আছে এক বা একাধিক গুদাম ঘর। তাছাড়া বাজারের আশপাশে প্রায় শতাধিক বাড়ি নির্দিষ্ট টাকার বিনিময় প্রতি মৌসুমে স্প্রেপ্রসহ আম রাখার কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ব্যাপারী এই বাজারে আসেন।
আড়তে আম বিক্রয় হওয়ার পর তা চলে যায় আগে থেকে নির্দিষ্ট করা গুদামঘর বা বাসা বাড়িতে। এর পর ঘরের মেঝেতে আম বিছিয়ে রাইস মিথানল, কারবাইড সালফেট, ফরমালিন একসঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করা হয়। ফ্যানের বাতাসে কিছুক্ষণ শুকানোর পর প্লাষ্টিক কার্টুন অথবা ক্যারেটে পুরনো খবরের কাগজ মুড়িয়ে প্যাকিং করা হয়। এর পর ট্রাকে লোড দিয়ে তা পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিরক কুমার সরকার বলেন এ বছর শার্শা উপজেলায় ৩শত ৯০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। আম একটি উচ্চ মূল্যের ফসল সেই হিসাবে চাষিদের আম চাষে উৎসাহ সহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শার্শা উপজেলার উৎপাদিত আম স্থানীয় চাহিদা পূরণ করার পরও ঢাকা, চট্রগ্রাম ও খুলনা সহ দেশের বড় বড় শহর গুলোতে বিক্রয় করা হচ্ছে।
গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হয়ে থাকে। তাই অন্যান্য ফসলের তুলনায় আম চাষ করতে চাষিরা স্বাচ্ছন্দ বোধ করছে। কিছু কিছু চাষি অধিক লাভের আশায় রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করছে। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এ সকল চাষিদের নিয়ন্ত্রন করা হবে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতি গ্রস্থ না হলে এ উপজেলায় ১০ হাজার মেঃ টন আম উৎপাদিত হবে।
ডাঃ ফিরোজ আহম্মেদ আল-আমিন বর্তমান সময়ে মানুষ বাজারে বিভিন্ন আমের সাথে বিভিন্ন রাসায়নিক ক্ষতিকর দ্রব্যাদি মিশাচ্ছে। যে ক্ষতিকর দ্রব্যাদি মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যে গুলো মানুষের শরীরে শ্বাসকষ্ট, চামড়া জাতীয় রোগ তৈরি করতে পারে। প্রজনন ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এমনকি গর্ভবর্তীদের গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে। সব চেয়ে বড় সমেস্যা হলো এ জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্যাদিতে ফার্সন জনিক প্রভাব আছে অর্থাৎ শরীরের ফুসফুস, কিডনি ও ত্বক সহ অন্যান্য জায়গায় ক্যান্সার জাতীয় ক্ষতিকর প্রভাব তৈরী করতে পারে।





