ফরিদপুরের সদরপুরের চরব্রাক্ষ্মণদী গ্রামের করিম হাওলাদারের ছেলে সেনাবাহিনীর সৈনিক আরজান হাওলাদারের (২৭) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।  গত শনিবার মধ্য আফ্রিকায় জাতিসংঘের শান্তি মিশনে কর্মরত থাকা অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি।


নিহত আরজানের স্ত্রী চায়না বেগম জানান, ২৬ মে আরজানের সঙ্গে শেষ কথা হয় মোবাইল ভিডিও কলে।  সে তখন গাড়িতে ক্যাম্পে যাচ্ছে বলে জানায়। সেখানে গিয়ে কথা হবে বলে জানিয়েছিলো সে।  এরপর তার সঙ্গে আর কথা হয়নি।  তিনি আরো বলেন, রোববার পরিবারের কাছে দুর্ঘটনায় আরজানের মৃত্যুর খবর আসে।


আরজান ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আরজান ও চায়না দম্পতির একমাত্র সন্তান পাঁচ বছরের ফাহিম আহমেদ। সে এখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি।

সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বাবুল জানান, প্রায় ছয় মাস আগে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে যান আরজান। তিনি ৩৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সৈনিক পদে চাকরি করতেন। পরিবারের দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। বাবা করিম হাওলাদারের মৃত্যুর পর মা রহিমা খাতুন আরজানকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানেই বড় হন আরজান। পড়ালেখা শেষে সেনাবাহিনীতে সৈনিকের চাকরি নিয়ে পরিবারের হাল ধরেন তিনি।


আরজানের মৃত্যুতে তাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।  পরিবারটির প্রতি সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার জোর দাবি জানান।