মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরবাজারে রেলওয়ের জায়গা দখল করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনের ঢাকামুখী অংশের ৫ ফুট দুরত্বে মাছ বিক্রির শেড নির্মাণ করছে বারইয়ারহাট পৌরসভা। গত বছরে রেলওয়ের ভ্রাম্যমান আদালত রেল লাইনের পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠা অবৈধ দোকানগুলো ভেঙ্গে দিলেও এক বছরের ব্যবধানে পৌরসভা কর্তৃক নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন শেড। বারইয়ারহাট পৌরবাজার অংশে গত ৩ বছরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে অন্তত অর্ধশত পথচারী ও কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, বারইয়ারহাট পৌরসভায় মাছ বাজারের পুরনো শেডটিও রেলওয়ের জায়গার উপর অবস্থিত। কিছুদিন পূর্বে পুরনো শেডটি সংস্কার কাজ করার জন্য টেন্ডার আহ্বান করে পৌর কর্তৃপক্ষ। পুরাতন শেডটি সংস্কার শেষে পুনরায় রেলওয়ের জায়গা দখল করে ঢাকা মুখী রেললাইন থেকে ৫ ফুট দুরত্বের মধ্যে লোহার এঙ্গেলে টিন লাগিয়ে নতুন শেড নির্মাণ কাজ শুরু করে পৌর কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে নতুন নির্মিত শেডে ১০ টি দোকান ১ লাখ টাকা করে ভাড়ার বরাদ্ধও দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বারইয়ারহাট পৌর বাজারে রেললাইনের উপর বসা কাঁচাবাজার ও মাছ বাজারে কেনাকাটা করার সময় গত ৩ বছরে নিহত হয়েছে অন্তত অর্ধশত পথচারী ও ব্যবসায়ী। রেলওয়ের জায়গা দখল করে শেড নির্মাণ করলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। রেললাইনের পাশে অবৈধ দোকান বসানোর ফলে যেকোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বারইয়ারহাট পৌরসভার স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ রফিকুজ্জামান বাবুল বলেন, পৌরসভা থেকে পুরাতন মাছ বাজার সংস্কার কাজের জন্য ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিলো। পুরাতন মাছ বাজার সংস্কার কাজ পৌরসভার মাসিক মিটিংয়ে অনুমোদন হলেও নতুন করে শেড নির্মাণের জন্য কোন সীদ্ধান্ত হয়নি। পৌর মেয়র কোন কাউন্সিলরের সাথে আলোচনা না করে বিনা টেন্ডারে রেললাইনের ৫ ফুটের মধ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই শেড নির্মাণ করছেন। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গত কয়েক বছরে রেললাইন ঘেঁষে গড়ে উঠা কাঁচাবাজার ও মাছ বাজারে অর্ধশত ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বারইয়াহাট পৌর মেয়র মোঃ নিজাম উদ্দিন (ভিপি) বলেন, পৌর বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পুরাতন মাছ বাজারের শেডটি সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া মাছ বিক্রেতাদের জায়গা সংকুলান না হওয়াতে নতুন করে শেড নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে বরাদ্ধের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। রেলওয়ের জায়গা দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে শেডগুলো অনেক আগে থেকে স্থাপিত ছিলো।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত রেজা বলেন, বারইয়ারহাট পৌর বাজারে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ স্থাপনাগুলো ইতোপূর্বে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ভেঙ্গে ফেলা হয়। রেললাইনের পাশে নতুন করে নির্মিত শেড উচ্ছেদের বিষয়ে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।











