নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে আবুল হোসেন ওরফে টাওয়ার সুমন (৪০) নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার বারদী ইউনিয়নের শান্তিরবাজার চেঙ্গাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় আব্দুল সাইদ ভূইয়া (৩৫) নামে আরো এক ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বন্দুকযুদ্ধে সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলমসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতদের ব্যবহৃত দেশীয় তৈরি একটি সুটারগান, দুটি ধারালো ছোড়া, একটি চাপাতি, একটি রামদা ও একটি কাওয়াল উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ডাকাত আবুল হোসেন ওরফে টাওয়ার সুমন আড়াইহাজার উপজেলার আতাদি গ্রামের আব্দুল বাতেনের ছেলে ও গ্রেফতারকৃত আব্দুল সাইদ ভূইয়া একই উপজেলার জুগাইরদিয়া ভূঁইয়াপাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে। নিহত ডাকাত সুমনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের শান্তিরবাজার চেঙ্গাকান্দি রাস্তার মোড়ে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ১০-১২ জনের একটি ডাকাতদল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ডাকাত দল গুলি ছুড়ে। পুলিশও তখন পাল্টা গুলি ছুড়ে। ডাকাত পুলিশের গোলাগুলিতে আবুল হোসেন ওরফে টাওয়ার সুমন নামে এক ডাকাত নিহত হয়। পুলিশ এলাকাবাসীর সহায়তায় আবু সাইদ ভূইয়া নামের এক ডাকাতকে গ্রেফতার করে। নিহত আবুল হোসেন ওরফে টাওয়ার সুমনের বিরুদ্ধে নরসিংদী, আড়াইজাহার, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁওসহ বিভিন্ন থানায় ২০-২২টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত ডাকাত আব্দুল সাইদ ভূইয়ার বিরুদ্ধে ১০-১২টি মামলা রয়েছে।

সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম পিপিএম জানান, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ডাকাত সুমনের বিরুদ্ধে ২০-২২টি মামলা রয়েছে। নিহত ডাকাত ডাকাতিকালে বিভিন্নস্থানে ধর্ষণেরও ঘটনা ঘটিয়ে ছিল। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।