কুমিল্লার চান্দিনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মাণাধীন সড়কে বাঁশ পুঁতে বেড়া দিয়ে দুইটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলার বরকরই ইউনিয়নের ভূয়ারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই গ্রামের দুইটি পরিবার বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না।
সরেজমিনে ভূয়ারী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়দের আবেদনের ভিত্তিত্তে কাদুটি-ধেরেরা সড়কের মোড় থেকে ভূয়ারী পূর্ব পাড়া পর্যন্ত ৫শ’ মিটার পাকা সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। সড়কটি নির্মাণ কাজ শুরু করে সিংহ ভাগ অংশে ‘মেকাডাম’ কংক্রিটের সর্বশেষ লেয়ার সম্পন্ন হয়। বাকি অংশের ৩০ ফুট অংশে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাসেম ও আবুল কাশেমের সীমানা অংশে ৩০ ফুট স্থানের সড়ক নির্মাণে আপত্তিকে কেন্দ্র করে ফুসে উঠে গোটা এলাকা। ওই দুই পরিবারের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকার অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা এলডিইডি’র নির্মাণাধীন সড়কে দুই ধাপে ২টি বেড়া দেয়। এছাড়া ওই দুই পরিবারের বাড়ির চারপাশে অন্তত আরও ৪টি বেড়া দিয়ে তাদেরকে একরকম অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসেম।
তিনি জানান, দশ ফুট প্রশস্থ সড়কটি নির্মাণ করে আমাদের বাড়ি পর্যন্ত গেলেও ভিতরের অংশে ১০ ফুট প্রশস্থ সড়ক নেওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। কিন্তু গ্রামের কিছু লোক শেষ পর্যন্ত ১০ ফুট প্রশস্থ সড়ক নির্মাণ করতে একত্রিত হয়। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি ও আমার ভাই তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের পরিবারের চারপাশে একাধিক বেড়া দিয়ে আমাদেরকে অবরুদ্ধ করে দেয়। এমনকি আমাদের দানকৃত স্থানে নির্মিত মসজিদ। ওই মসজিদেও যেন যেতে না পারি সেখানেও বেড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা এখন বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। এমনকি কোনো লোকও আমার বাড়িতে আসতে পারছে না।
তবে এলাকার অন্যান্য পরিবারের পক্ষে রুবেল আল কায়ূম নামে এক ব্যক্তি জানান, সড়কটি নির্মাণ করতে এ পাড়ার সকল পরিবার একমত হয়ে আবেদন করেন। সেই মোতাবেক সড়কটি টেন্ডার হয়ে কাজ শুরু হয় এমনকি সিংহভাগ সড়ক নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু আবুল হাসেম ও আবুল কাশেম মাত্র ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য স্থানে ৪ ফুট জায়গা না দেয়ায় সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। যারফলে আমরা একত্রিত হয়ে ওই পরিবারের চারপাশে বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছি।
কোনো পরিবারকে অবরুদ্ধ করা আইনগত অপরাধ কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অপরাধ হউক আর যা-ই হউক আমাদের কথা না মানলে আমরা আরো কঠোর ভূমিকা নিয়ে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখবো।
এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মুহাম্মদ সামছুল ইসলাম জানান, এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।





