ঘটনা পেরিয়ে গেছে প্রায় ১০ দিন। স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান থানা পুলিশ এবং কোনো কর্তৃপক্ষ অসহায় পরিবারটির সহায়তায় এগিয়ে আসছে না। শুধু একে অপরের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েই যেন কাজ শেষ তাদের। আর ওদিকে নির্যাতিত পরিবারটি আত্মসম্মানের ভয়ে নিজেদের লুকিয়ে রাখছে।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভালকুটিয়া গ্রামের মধ্যপাড়ার বদিয়ার মিয়ার কন্যা আকলিমা (ছদ্মনাম) (১৫) পাটখড়ির বেড়ার একটি ভাঙ্গা ঘরে প্রতিদিনের মতো ঘুমাতে যায়। পাশের বাড়ির সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করা সন্তো মোল্লার ছেলে রব্বানি (১৯) আকলিমার অজান্তে ঘরে প্রবেশ করে। জোরপূর্বক আকলিমার সাথে অনৈতিক কাজ করায় আকলিমা চিৎকার দিলে পাশের ঘরে শুয়ে থাকা তার বাবা-মা এসে রব্বানিকে হাতে নাতে আটক করে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১ মে সোমবার রাত ১১ টার দিকে। পরে রব্বানিকে তারা ঘরে আটকে রেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজ্জাক মিয়াকে খবর দেন। এসব তথ্য জানিয়েছেন নির্যাতিত পরিবারটি। আকলিমা আবু সাঈদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এ ব্যাপারে নির্যাতিত মেয়েটি জানায়, রব্বানি আমার সাথে জোর পূর্বক অসামাজিক কাজ করেছে। আমি চিৎকার দিলে আমার বাবা-মা এসে আমাকে তার হাত থেকে উদ্ধার করে। আমি রব্বানির বিচার চাই। এদিকে এ ঘটনাটিকে ধর্ষণ হিসেবে দেখছেন না নাগরপুর থানার ওসি মাঈন উদ্দিন। তিনি মনে এটি একটি প্রেমজনিত ঘটনা।

রব্বানির অভিভাবকদের ডেকে নিয়ে আসলে কৌশলে রব্বানি ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করে। পরের দিন সকাল ৭টায় স্থানীয় মাতব্বররা ঘটনাটি পারিবারিকভাবে মীমাংসার দিন ধার্য করে। কিন্তু ওই দিন বেলা ১২টা পর্যন্ত মীমাংসা বৈঠকে কোনো সমাধান না আসায় দুই পক্ষের মাতাব্বররা বৈঠক ত্যাগ করেন। পরে আকলিমার বাবা বদিয়ার মিয়া নাগরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বিবাদি পক্ষের লোকজন কালক্ষেপণ করায় ঘটনার আজো কোনো সমাধান হয়নি। বরং বিবাদি পক্ষের লোকজন অভিযুক্ত রব্বানিকে গুম করার অভিযোগ এনে তাদের ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। আত্মসম্মানের ভয়ে এলাকায় তারা নিজেদের লুকিয়ে রাখছে। শুধু তাই নয়, গফুর মিয়া আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক মিয়া জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। কিন্তু আসলেই কী হয়েছে তা আমি জানি না। দুই পক্ষের লোকজন নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি কিন্তু বিবাদি পক্ষের লোকজন তারা ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছে না এই অজুহাতে সমাধানের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।

মেয়েটির মা রেহেনা বেগম ও বাবা বদিয়ার জানান, আমরা গরিব বলে আমাদের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছে না। এ দেশে কি কোনো আইন কানুন নেই? আইন কি সব বড় লোকদের জন্য? আমরা রব্বানির বিচার চাই। যাতে রব্বানির মতো ছেলেরা আর কোনো মেয়ের ক্ষতি করতে না পারে।

এ ব্যাপারে নাগরপুর থানার ওসি মাঈন উদ্দিন জানান, এটা ধর্ষণের কোনো বিষয় না। এটা প্রেম সম্পর্কিত। গ্রামঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই থাকে। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক থাকলে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। হঠাৎ করে কেউ দেখে ফেললে তখন এটা ধর্ষণ বলে। কিছু দুষ্টু লোক থাকে যারা ব্যারিকেড দেয়ার চেষ্টা করে। তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছে শুনেছিলাম। ছেলেটাকে যদি সঙ্গে সঙ্গে পেতাম তাহলে আমাদের কাজে লেগে যেত। ছেলেটা পালিয়ে গেছে। আর এ ধরনের ঘটনায় থানায় তাৎক্ষণিক ইনফর্ম করতে হয়। তারা যেটা করছে সেটা 'আপস হইছে'। দুই চারজন হয়তো দেখে ফেলছে। এলাকাবাসী তাই বলছে। আর এটাই সত্য। তারপরও আমরা ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি দেখা যাক কী হয়।

আরো পড়ুন :
সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধে লাকসামে গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম
লাকসাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

লাকসামে সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের হামলায় শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন আহত হয়। এ ঘটনায় গৃহবধূ মায়া বেগম (৩৫) বাদি হয়ে সোমবার রাতে সাতজনের নাম উল্লেখ করে লাকসাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটি ঘটেছে, ওই দিন সন্ধ্যায় লাকসাম পৌরশহরের পশ্চিমগাঁও বাগিচাবাড়ি এলাকায়।

জানা গেছে, একই বাড়ির বশর আলীর ছেলে ওমর ফারুক মায়া বেগমকে সোয়া ১ শতক জমি দলিল করে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় ওই দিন সন্ধ্যায় উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রতিবেশী সেলিম, মোসলেম মিয়া, রোকেয়া বেগম, রোকসানা, ওমর ফারুক, জয় ও ফয়সাল হামলা চালায়। এ সময় তারা মায়া বেগমের ব্যবহৃত টিউবঅয়েল জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এতে বাধা দিতে গেলে ইটের আঘাতে মায়ার মাথা ফেটে যায়। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষিতে মায়ার স্বামী আবদুল আজিজ ও তার শিশুপুত্র আহত হয়।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, অভিযোগের তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।