তাবলিগ জামায়াত নিয়ে বিতর্কে থাকা ভারতের মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির অনুগামীরা নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সভা করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন। স্থানীয় ওলামা পরিষদ, হেফাজতে ইসলামের নেতাদের প্রবল বাধার মুখে তারা নারায়ণগঞ্জে বয়ান করতে পারেনি। ওই ঘটনায় জেলা ওলামা পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়ালকে ডেকে নিয়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেন পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, তাবলিগ জামায়াত নিয়ে নানা কারণেই বাংলাদেশে বিতর্কিত মাওলানা সাদ কান্ধলভি। এ কারণে এ বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া দেশের বৃহত্তম তাবলিগ জামায়াতে বয়ান করতে পারেনি তিনি। প্রবল বাধার মুখে তাকে আবারো ভারত চলে যেতে হয়। পরে তার অনুগামী নিজামউদ্দিনের একটি গ্রুপ সম্প্রতি বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন মসজিদে বয়ান করেন। কিন্তু এতে বাধা দেয় তাবলীগের মূল ধারার নেতারা যাদের সঙ্গে হক্কানী আলেমেরা জড়িত।
নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া জামে মসজিদে (পুরাতন মার্কাজ মসজিদ) ৩১ মে বয়ানের আয়োজন করেছিল ওই গ্রুপ। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা ওলামা পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়ালসহ অন্যরা বাধা দেন। এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে দুপুরে পুলিশ প্রশাসন মাওলানা আবদুল আউয়ালকে তলব করে এসপি অফিসে নিয়ে যান এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেন।
জেলা হেফাজতে ইসলামের সমন্বয়ক ফেরদাউসুর রহমান জানান, দেশের হক্কানী আলেমদের কারণে মাওলানা সাদ ও তার লোকজন দেশে কোথাও বয়ান করতে পারছেন না। কারণ সাদপন্থীরা ভ্রান্ত বিষয় প্রচার করছেন। নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন মসজিদে তারা বয়ানের সুযোগ না পেয়ে আমলাপাড়া জামে মসজিদে একটি মসজিদে বয়ানের কথা ছিল মাওলানা সাদপন্থী গ্রুপের। এটা নারায়ণগঞ্জের হক্কানী আলেমেরা বাধা দেয়। শেষতক আমাদের প্রবল বাধার মুখে তারা ফেরত গেছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, তাবলিগ জামায়াত নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে কাকরাইল মসজিদে সম্প্রতি মারামারিও হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে যাতে এ ধরনের কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্যই মাওলানা আবদুল আউয়ালকে পুলিশ সুপার তলব করেছিল। সেখানে আলোচনা হয়েছে।
আরো পড়ুন :
বরিশালে কুরআন-হাদিস অধ্যয়ন ফোরামের ইফতার মাহফিল
বরিশাল ব্যুরো
কুরআন-হাদিস অধ্যয়ন ও কল্যাণ ফোরামের ইফতার মাহফিল গত মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল নগরীর পশ্চিম বগুড়া জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও বিএম কলেজ বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আ খা মো: আবদুর রব।
প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারি বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ হানিফ। উপস্থিত ছিলেন বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সাইদুল ইসলাম, প্রফেসর শামসুদ্দিন খান, সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল ওয়াহেদ, জমজম ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান মাসুদুল হক এনাম, বরগুনা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম আবদুল কাদের, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মো: নূরুল হক, পশ্চিম বগুড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা কাওসার হামিদী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম জাকির হোসেন প্রমুখ। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন আলেকান্দা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মনিরুজ্জামান নূরানী।
অনুষ্ঠানে কুরআন-হাদিস অধ্যয়ন ও কল্যাণ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক যুগ্মসচিব প্রফেসর এম মোয়াজ্জেম হোসেন মিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।





