ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) ইফতার মাহ্ফিলে হামলার ঘটনাকে পরিকল্পিত দাবি করে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতাকে দায়ী করলেন জাপা এমপি।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা সরাইল-বিশ্বরোডস্থ লালশালুক রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন। এতে তিনি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আল্টিমেটাম দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউল হক মৃধা এমপি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার রয়েছে । সারাদেশে রাজনৈতিক সহাবস্থানের তীর্থভূমি হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিচিত।
ইফতার মাহফিলে হামলার মাধ্যমে এখানে আজ কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করা হলো। হামলার ঘটনায় নিজ দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াহেদুল হকের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রভাবশালী ওই নেতা সরাইল-আশুগঞ্জের নানা কর্মকান্ডে অবৈধ হস্তক্ষেপ করে চলছেন। অথচ আশুগঞ্জ-সরাইল তার জুরিডেকশন নয়।
তিনি বলেন, আমরা সমর্থন দিয়ে আওয়ামী লীগকে সাড়ে ৯ বছর ধরে ক্ষমতায় রেখেছি। কিন্তু সরকারের শরীক দলের প্রতি এমন বিদ্বেষমূলক আচরণের কারণ আমাদের জানা নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল দেশ নিয়ে ভাবলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ সেটা ভাবে না। তারা নিজেদের কথা ভাবে।
হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে জিয়াউল হক মৃধা আরও বলেন, যখন আমার গাড়িটি ভাঙচুর করা হচ্ছিল তখন এক পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ি এখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। এতেই বোঝা যায় এ হামলা পরিকল্পিত। দলের পক্ষ থেকে মামলা নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করছে না। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলার জড়িতদের গ্রেফতার করা না হয় তাহলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পাশাপাশি প্রয়োজনে রাজপথ ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি দেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা রেজউল ইসলাম ভূইয়া, সরাইল উপজেলা জাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির ও আশুগঞ্জ উপজেলা জাপার সদস্য সচিব মিরাজ শিকদার প্রমুখ।
উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার ব্র্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের লোকনাথদিঘির পাড়স্থ পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত জেলা জাপার ইফতার মাহ্ফিলে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। এতে পন্ডু হয়ে যায় ইফতার মাহ্ফিল। হামলায় জাপার অন্তত পাঁচ নেতাকর্মী আহত এবং সাংসদ মৃধার গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করে দলটি।
হামলার ঘটনায় জেলা জাপা থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা ওয়াহেদুল হক ওয়াহাব ও সরকারদলের সমর্থকরা জড়িত বলে সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা।





