শরীয়তপুর পৌরসভার আটং বড়ব্রীজ এলাকায় একটি ধানবাহী ট্রাক উল্টে পাশের খালে পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনজন ধানকাটা কৃষক নিহত হয়েছে। এ সময় ট্রাকে থাকা আরো ৯ জন ধান কাটার কৃষাণ গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার চেচুয়া গ্রামের রহমত গাজি (৪০)। একই উপজেলার চেউটিয়া গ্রামের নাঈম (২০) ও ইদ্রিস (৪৮)।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে একই উপজেলার কাপসন্ডা গ্রামের আমিন উদ্দিন সরদারের ছেলে ইসমাইল সরদার, খালিয়া গ্রামের গফুর গাজীর ছেলে রবিউল, আবুবকরের ছেলে হামিদ, মফিজ উদ্দিনের ছেলে মহসীন, রহমত গাজীর ছেলে মালেক, রবিউল গাজী, খায়রুল ইসলাম, মালেক সরদার, ও আ: আলিম।

দুর্ঘটনার পর ট্রাক চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যায়।

আহত কিষাণ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা থেকে আগত এ কৃষাণরা শরীয়তপুরের পালং উপজেলার কানার বাজার ও নড়িয়া উপজেলার আচুড়া এলাকায় বোরো ধান কাটার কাজ করে তাদের পারিশ্রমিকের ২শ’ বস্তা ধান ট্রাকে নিয়ে সাতক্ষীরার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। শরীয়তপুর পৌরসভার আটং বড়ব্রীজ এলাকায় গেলে নির্মানাধীন রাস্তার পশ্চিম পাশের কাচা মাটিতে ট্রাকের চাকা দেবে ট্রাকটি উল্টে রাস্তার পশ্চিম পাশের খালে পড়ে যায়। এ সময় তিন শ্রমিক ট্রাকের নিচে পড়ে আটকে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ট্রাক সরিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান।

ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক নিয়াজ মাহমুদ জানায়, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে রাত ১০টার দিকে তার ঘটনাস্থলে পৌঁছে সর্বোচ্চ দক্ষতা, কৌশল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ট্রাকের নিচে আটকে পড়া ৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়।