টাঙ্গাইলের সখীপুরে সেই ব্রাজিল ভক্তের মৃত্যুরণ করেছেন।। উপজেলার প্রতিমা বংকী গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী বছির উদ্দিনের ছেলে ব্রাজিলের সমর্থক রাশেদ হাসান (১৪) মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ এক সপ্তাহ গুরুতর অসুস্থ থেকে সেই ব্রাজিল ফুটবল দলের ভক্ত রোববার রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে।

গত ২৮ মে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে উঁচু গাছ থেকে ছিঁটকে পরে চলন্ত বাসের চাকায় পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। রাশেদ হাসান উপজেলার প্রতিমা বংকী সিনিয়র মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাশেদ হাসান তার দুই সহযোগী ব্রজিল ভক্ত বন্ধুদের নিয়ে গত ২৮ মে সোমবার সকালে উপজেলার প্রতিমা বংকী বাজারে ব্রাজিল ফুটবল দলের পতাকা নিয়ে আসে। তাদের মধ্যে রাশেদ হাসান সখীপুর-ঢাকা সড়কের পাশে সবচেয়ে উঁচু মেহগনি গাছে ওই পতাকা টাঙাতে উঠে। পতাকা বাঁধতে গিয়ে পা ফসকে সে নিচে সড়কে চলন্ত বাসের সামনে ছিঁটকে পড়ে। বাসের ড্রাইভার তাকে বাঁচাতে বাসটি কড়া ব্রেক করলেও রাশেদ হাসান বাসের সামনের চাকায় পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ৭ দিন চিকিৎসার পর রোববার রাতে তার মৃত্যু ঘটে।

আরো পড়ুন :

মাঠে ফিরেই ম্যাজিক নেইমারের

বিশ্বকাপের আগে নেইমারের ফিটনেস নিয়ে চিন্তায় ছিলেন ব্রাজিল সমর্থকদের একটা বড় অংশ। চোটের জন্য কয়েক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন ব্রাজিলের অধিনায়ক। মাঠে ফিরেই তিনি আগের মত ছন্দে খেলতে পারবেন তো? প্রশ্ন ছিল অনেক সমর্থকের মনেই। মাঠে নেমেই সেই সব প্রশ্নের জবাব দিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের পোস্টার বয়। ডি বক্সের ভিতরে নিঁখুত ফুটওয়ার্কে কার্যত একার হাতে ধ্বংস করে দিলেন ক্রেয়োশিয়ার ডিফেন্স। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে নেইমারের সেই অনবদ্য গোলে ভর করেই প্রাক বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ব্রাজিল। শেষ মুহূর্তে গোল পেলেন ফিরমিনোও। ফলে ব্রাজিল জিতল ২-০ গোলে।

চোটের জন্য রোববারের ম্যাচে নেইমারের খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। ম্যাচের দু’দিন আগেই ব্রাজিলীয় শিবির থেকে ইঙ্গিত মিলেছিল প্রস্তুতি ম্যাচের শুরু থেকে নামবেন না অধিনায়ক। তাঁর পরিবর্তে ম্যাচের শুরু থেকে খেলবেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস, উইলিয়ান, ফিলিপে কোতিনহোর মত তারকারা। কিন্তু তিনজন নামী তারকা থাকা সত্ত্বেও ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে কেমন যেন ধারহীন দেখাচ্ছিল ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে। প্রথমার্ধে ক্রেয়োশিয়ার থেকে বলের দখল অনেকটা বেশি ছিল ব্রাজিলেরই । তা সত্ত্বেও সুযোগ তৈরি করতে পারছিলেন না ফুটবলাররা। প্রথমার্ধে একবারও ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপারকে সমস্যায় ফেলতে পারেননি গ্যাব্রিয়েল জেসুস বা ফিলিপে কোতিনহোরা।

আর তাই কার্যত বাধ্য হয়েই দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নিজের সেরা অস্ত্রকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন কোচ টিটে। মিডফিল্ডার ফার্নান্দিনোর পরিবর্তে মাঠে নামেন নেইমার। গ্যাব্রিয়েল জেসুসকেও বসিয়ে দেন টিটে। পরিবর্তে মাঠে নামেন ফিরমিনো। এরপর ছবিটা কিছুটা বদলায়। ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে ব্রাজিল। তবে, খেলার প্রথম সুযোগটি আসে ৫৭ মিনিটে। তা কাজে লাগাতে পারেননি ফিরমিনোরা। এরপর ৬৯ মিনিটে এল সেই কাঙ্ক্ষিত মুভ। মিডফিল্ড থেকে বাড়ানো বল নিয়ে দ্রুত ডি বক্সে ঢুকলেন নেইমার। নিখুঁত ফুটওয়ার্কে তিনজন ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডারকে কার্যত ধরাশায়ী করে জালে বল জড়িয়ে দিলেন প্যারিস সাঁ জাঁ স্ট্রাইকার।

এরপর অবশ্য আবার কিছুটা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলল ব্রাজিল। অনেকটাই ফ্রন্টফুটে খেললেন মডরিচ, রাকিতিচরা। তবে, শেষ পর্যন্ত রক্ষণ শক্ত রেখে জয় নিশ্চিত করল সাম্বা ফুটবলাররা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটি গোলও করল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। প্রতি আক্রমণে গিয়ে সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকারের মত গোল তুলে নিলেন রবার্তো ফিরমিনো। তবে, জোড়া গোলে জয় পেলেও ব্রাজিলের ফুটবল মন ভরাতে পারল না সমর্থকদের। নেইমার, ফিরমিনোরা গোল পেলেও ব্রাজিলের চেনা ছন্দের দেখা মিলল না ক্রেয়োশিয়া ম্যাচে। তবে, এ তো শুধু প্রস্তুতি ম্যাচ। আসল খেলা অবশ্য শুরু হবে সেই রাশিয়াতেই।