বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বলেছেন, এই দেশের কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসার নেত্রী বেগম জিয়া আজ অসুস্থ অবস্থায় নির্জন কারাগারে রয়েছেন। তিনি অসুস্থ, ৭৪ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যক্তি। এই সরকার কয়েক মাস তাকে একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখেছে। এটি যে কতটা হৃদয়বিদারক ব্যাপার তা বলে বোঝানো যাবে না। এর চেয়ে নিষ্ঠুর কিছু আর হতে পারে না। বেগম খালেদা জিয়া যেন ভালোভাবে সুস্থভাবে কারামুক্ত হতে পারেন সেজন্য এখন আমাদের সামনে একটিই পথ। সেটি হলো আন্দোলন ও সংগ্রাম করা। আমাদের সামনে আন্দোলন-সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কামনায় ফরিদপুরের শেখ জামাল ষ্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে ফরিদপুর শহর ও কোতয়ালী থানা বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ একথা বলেন।
চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ আরো বলেন, আমরা সবাই আত্মীয়স্বজন নিয়ে রোজা ইফতার করছি। আর বেগম জিয়া আজ নির্জন কারাগারে। এর চেয়ে হৃহৃদয়বিদারক আর হতে পারে না। দেশে আজ একটা অশান্তি পরিবেশ বিরাজ করছে। মানুষের কথা বলার কোন অধিকার নেই। রাজনৈতিক কোন অধিকার নেই। নিম্নতম ভোটের অধিকারও নেই। কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বেগম জিয়াকে জেল থেকে বের করে আনব। এবং এই সরকারকে বাধ্য করবো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে। তিনি বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দেশে আবার বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। গণতন্ত্র ফিরে আসবে। দেশের উন্নতি হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া বলেন, জীবন দিয়ে হলেও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে। এই দেশে খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেব না। দেশে কোনো আইনের শাসন নেই। এই রমজান মাসেও সরকার পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পাখির মতো গুলি করে এই সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।
ফরিদপুর শহর বিএনপির সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজাউলের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, কামাল ইবনে ইউসুফ তনয়া বিএনপি নেত্রী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির শুরা সদস্য সামসুল ইসলাম আল বরাটি, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মওলানা বদরুদ্দীন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি, জেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভুইয়া রতন, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মিরাজ, কোতয়ালী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান রঞ্জন প্রমুখ।
আরো পড়ুন :
‘বাংলাদেশে একটি পুলিশি রাষ্ট্র’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রম দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি কার কাছে চাইবো এমন প্রশ্ন করে বলেছেন, দেশে কি কোনো বিচার ব্যবস্থা আছে, আইনের শাসন আছে? নেই। দেশে যে আইনের শাসন নেই তার বড় প্রমাণ হলো প্রধান বিচারপতিকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।
‘অবৈধ সরকারের’ বাজেটে জনগণের কোনো প্রত্যাশা মিটবে না দাবি করে তিনি বলেন, এই বাজেটে আগামী দিনে আওয়ামী লীগ একটি পরিকল্পিত কারচুপির নির্বাচন করতে যাচ্ছে, তাদের দলীয় নেতাদের চাঙ্গা করার জন্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে উৎকোচ দেওয়া হবে। এতে জনগেণর কোনো কল্যাণ সাধন হবে না। যে অর্থমন্ত্রী বলতে পারেন যে, গত ১০ বছরে জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। তিনি কী ধরণের বাজেট দেবেন, তিনি কোন কল্পলোকে বাস করেন সেটি সহজেই অনুমান করা যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত এই সংহতি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। এ সময় আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, তৈমুর আলম খন্দকার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মিরপুর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দুলু, ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কাল দেখলাম পুলিশ বাহিনীর আইজিকে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা দেয়া হয়েছে। আমিতো মনে করি তাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে একটি পুলিশি রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রের পুলিশপ্রধানকে ডেপুটি প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া উচিত। এই পুলিশি রাষ্ট্রে জনগণের কোনো মৌলিক অধিকার নেই। বাক স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা নেই, শিক্ষাঙ্গণে চলছে ব্যাপক নকল আর কারচুপি।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সর্বসম্মতভাবে ঘোষণা করতে চাই, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট কোনো নির্বাচনে যাবে না। স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে চাই, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেও বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। যদি নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠিত না হয়, আমরা নির্বাচনে যাব না। আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাজপথে নেমেছি, রাজপথে আরো শক্তভাবে নামবো। আমরা অপেক্ষা করে আছি সরকারের বোধদয় হয় কি না।
এই বিএনপি নেতা আরো বলেন, গাজীপুরের সিটি নির্বাচনটি পর্যন্ত আমরা দেখবো। তারপর ঈদের পর আমরা ২০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেবে আগামী দিনগুলোতে আমাদের কী করণীয় হবে। বিএনপি কোনো দুর্বল দল নয়। ২০ দলীয় জোটের পক্ষে শতকরা ৮০ জন লোকের সমর্থন রয়েছে।
বিচার বিভাগের কাছে আমরা আবেদন জানাতেই পারি উল্লেখ করে মেজর হাফিজ বলেন, আপনারা আপনাদের মেরুদণ্ড শক্ত করুন। আপনারা আইনের শাসনকে সমুন্নত রাখার জন্যে শপথবদ্ধ। আপনারা রাজনৈতিক দলের দিকে তাকাবেন না। বিনা অপরাধে খালেদা জিয়াকে কারাঅন্তরীণ করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ। তার প্রতি আপনারা সুবিচার করুন।








