কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মঙ্গলবাড়িয়া কামিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিনসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়ের করেন একই মাদরাসার আরবি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম। মামলা নং-৭৭/১৮। গত ৪ঠা জুন সহকারি জজ আদালতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ম্যাজিষ্ট্রেট আশিকুর রহমান অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগটি আমলে নিয়ে ১০ কার্য দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবাড়িয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে মামলার ২১নং বিবাদী মো. মজিবুর রহমানকে অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম হওয়ায় একই মাদরাসার আরবি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম এই মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদি এই মাদরাসায় ২০ বছর শিক্ষকতা করে আসছেন। মাদরাসার অধ্যক্ষ অবসরগ্রহণ করায় গভর্নিং বডি অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য ১১/০৬/২০১৭ইং তারিখে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে আবুল কাশেমসহ মাত্র তিনজন প্রার্থী আবেদন করেন।
ফলে মাদরাসার কমিটি পরীক্ষার তারিখ বাতিল করে পুনরায় ২১/১১/২০১৭ইং তারিখে আবারও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতেও আবুল কাশেমে আবেদন করেন। তখন তিনিসহ ২০/২৫জন প্রার্থী দরখাস্ত করেন। এই সময় প্রতিষ্ঠানটি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম।
পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ৪/৫ মাস পর্যন্ত নিয়োগের কোন কার্যক্রম গ্রহণ না করিয়া বিগত ০৯/০৪/২০১৮ইং তারিখ গভর্নিং বডির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন তার পূর্ব মনোনীত প্রার্থী মো. মজিবুর রহমানকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের জন্য অতি সকল প্রার্থীর ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু না করে পছন্দের প্রার্থীকে অধিক নম্বর দেখিয়ে মাদরাসায় কোন পরীক্ষা গ্রহণ না করিয়া ঢাকা আলীয়া মাদরাসায় ইন্টারভিউ নেন। এতে তিনি তার পছন্দের প্রার্থী মো. মজিবুর রহমানকে অধিক নম্বর দেখিয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন।
আর তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে মো. আবুল কাশেম বাদী হয়ে ৪ জুন নিম্ন আদালতে গভর্নিং বডির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভেঅকেট মো. সোহরাব উদ্দিনসহ ২৭জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে সাংসদ অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিনের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিধি সম্মত ভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যথাযথ কাগজপত্র না থাকায় কিছু আবেদনকারির আবেদনপত্র বাতিল করেছে কমিটি। মঙ্গলবাড়িয়া কামিল মাদরাসায় নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া আমার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও বোর্ডের প্রতিনিধিদের সুবিধার্থে ঢাকা আলীয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, প্রথমবার আমাকে আমার কাগজপত্রও যাচাই বাছাই করে ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু করেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আমি পুনরায় আবেদন করলে আমাকে নিয়োগ পরীক্ষা থেকে বাহিরে রাখার উদ্দেশ্যে আমার আবেদনটি বাতিল করেন এবং গোপনে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। যার ফলে আমার মনে হয়েছে আমি সঠিক ভাবে মূল্যায়ন পাইনি। তাই আদালতের দারস্থ হয়েছি।





