চাঁদপুরে কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের সদস্য ও ফরিদগঞ্জ গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহিন সুলতানা ফেন্সি (৫৫) নিজ বাসভবনে খুন হয়েছেন। সোমবার রাতে চাঁদপুর শহরের ষোলঘর পাকা মসজিদ এলাকার বাসভবন থেকে ফেন্সির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত ফেন্সির ভাই ফোরকান খান বাদি হয়ে মঙ্গলবার চাঁদপুর সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় নিহতের স্বামী চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখা ও অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ অ্যাডভোকেট জহিরুল এবং মঙ্গলবার ভোরে চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখাকে আটক করে।
নিহত ফেন্সির ভাই ষোলঘর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: নাঈমুর রহমান খান বলেন, আমার বোন শাহিন সুলতানা ফেন্সি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী। অ্যাডভোকেট জহিরুল ফেন্সির অনুমতি না নিয়ে ৫ বছর আগে জুলেখা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনমালিন্য চলছিল। এর জের ধরেই আমার বোন ফেন্সিকে অ্যাডভোকেট জহিরুল হত্যা করেছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নিহত ফেন্সির আরেক ভাই ফোরকান খান বলেন, হত্যার আগে অ্যাডভোকেট জহিরুলকে কিছু লোকজন নিয়ে বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। এর কিছুক্ষণ পরেই আমরা ফেন্সির হত্যার খবর পাই। এ ঘটনা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ছাড়া আর কেউ ঘটাতে পারে না।
নিহতের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, শাহিন সুলতানা ফেন্সি তিন মেয়ে সন্তানের জননী। তার দুই মেয়ে দেশের বাইরে এবং এক মেয়ে কুমিল্লায় থাকে। অ্যাডভোকেট জহিরুল গোপনে আরেকটি বিয়ে করায় এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। অ্যাডভোকেট জহিরুল বেশির ভাগ সময়েই শহরের নাজিরপাড়ায় তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর পারিবারিক কলহের জের ধরে প্রায় সময়ই জহির ফেন্সিকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের ছোট ভাই নয়ন বলেন, তার ধারণা কেউ চুরি বা ডাকাতি করতে এসে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে অথবা ভাইয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী এ খুনের সাথে জড়িত।
চাঁদপুর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়ালী উল্লাহ ওলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় দেখে ভেতরে প্রবেশ করে খাটের সামনে মেঝেতে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে। মাথায় আঘাতের কারণে শাহিন সুলতানা ফেন্সি নিহত হয়েছেন বলে তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। তদন্ত শেষে এ হত্যাকাণ্ডের সাথে কারা জড়িত তা বলতে পারবে পুলিশ। এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট জহিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
ফেন্সি নিহত হওয়ার খবর পেয়ে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ, সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আমরা হতবাক। জেলা মহিলা লীগ নেত্রী ফরিদা ইলিয়াছ জানান, নিহত ফেন্সি ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে তিন দশকেরও বেশি সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহিন সুলতানা ফেন্সি মহিলা আওয়ামী লীগের চাঁদপুর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়িকা হিসেবে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জাতীয় মহিলা সংস্থা চাঁদপুরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ছাত্রজীবনে তিনি চাঁদপুর মহিলা কলেজের ভিপি ছিলেন।





