জুরান আলী (৮০) পেশায় একজন মাটি কাটার শ্রমিক। আট টিনের একটি ভাংঙ্গাচোড়া ছাপরা ঘরে ছিলো তার দৈনন্দিন বসবাস। স্ত্রী, ২ মেয়ে, ৪ ছেলে নিয়ে গাদাগাদি করে ছাপরা ঘরে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে অনেক দুঃখ, কষ্ঠ করে খেয়ে না খেয়ে তার প্রতিটি দিন কাটাতো হতো। মাটি কেটে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার উপর নির্ভর করে তার চলতে হয় প্রতিটি দিন। অসুখ-বিসুখ অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে সংসার চালাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয় তাকে। উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের কলিয়া গ্রামের মৃত বেজেরন দেওয়ানের ছেলে মোঃ জুরান আলী। সরেজমিন পরিদর্শনে এ কথাগুলো বলেছিলেন তিনি।

২০১৭- ২০১৮ অর্থ বছরে আশ্রয়ন -২ প্রকল্পের অধীনে মাঠ প্রর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় ঘিওরে ২য় দফায় ১৫২টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ‘যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মান’ উপ-খাতের আওতায় জুরানকে একটি ঘর দেওয়া হয়। বারান্দাসহ টিনের পাকা ঘর ও একটি ল্যাট্রিন পেয়ে তার চোখে- মুখে হাঁসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে।

জুরান আলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমারে একটি ঘর দিয়েছেন। অভাবের সংসার আমি কখনও কল্পনাও করিনি আমার ভাগ্যে এত সুন্দর একটি ঘর জুটবে। আমি পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসবাস করতাছি। আল্লাহ যেন উনারে সারা জীবন বাঁচাইয়া রাহে।’

তার স্ত্রী মজিরন বেগম বলেন ছেলেপুলে নিয়ে বহু কষ্টে দিন কাটাইছি একটি ঘরের জন্য। ঘর পেয়ে আমরা সুখে দিন কাটাইতাছি। ঘরের সাথে একটি টয়লেটও আছে।

বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা কলিয়া গ্রামের কফিল উদ্দিন (৬৫) পৈতিক সূত্রে পাওয়া ১০ শতাংশ জমির মালিক। আগে তার জমির উপর চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে ৭ টিনের একটি ছাপরা ঘর ছিল। আর এই ঘরে ৬ সদস্য নিয়ে তাদের ছিল বসবাস। শীতকালের ঠান্ডা আর বর্ষার পানির সঙ্গে সংগ্রাম করে তাদের পার করতে হয়েছে জীবনের ৪২ থেকে ৪৫টি বছর। আগে কৃষি কাজ করতেন। বর্তমানে চায়ের দোকান করে কোন মতে বেঁচে আছেন।

বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের কোশুন্ডা গ্রামের নারারয়র চন্দ্র শীল একটি ঘর পেয়ে তিনি বলেন, আমি সেলুনের কাজ করি। আমার আয় দিয়ে সংসার চালাতে হিমশীম খেতে হয়। এত সুন্দর ঘরের স্বপ্ন কখনও দেখিনি। বর্তমান সরকার থেকে বাড়িটি পাওয়ায় খুব সুবিধা হয়েছে। নিশ্চিন্তে এই ঘরে পরিবারির সবাইকে নিয়ে ঘুমাতে পারছি।

সিংজুরি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লোক জনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সরকার থেকে এত সুন্দর ঘর পাওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। নতুন করে সুন্দর বাড়ি পাওয়ায় দীর্ঘদিনের দুঃখকষ্ঠ লাঘব হয়েছে। এখন খেয়ে না খেয়ে থাকলেও মাথা গোজার মতো জায়গা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঘিওরে ২০১৭- ২০১৮ অর্থ বছরে ‘যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মান’ প্রকল্পে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ ঘরের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের প্রকৌশলী মোঃ ইসতিয়াক হোসেন জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পের অধীনে গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে নিয়মানুযায়ী নির্মান করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার জানান, আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহ নির্মানের জন্য ৬টি ইউনিয়নে ১৫২টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ৮০ থেকে ৯০টি ঘর নির্মান করা হয়। বাকি ঘরগুলো নির্মানের কাজ চলছে। যারা ঘরগুলো পেয়েছে তারা একেবারেই হত দরিদ্র। তারা এক সময় চাটাই এবং বেড়ার ঘরে বসবাস করতো। বর্তমানে তারা অনেকটাই ভালভাবে থাকতে পারছে। পর্যায়ক্রমে ঘিওরে ১ হাজার পরিবারের জন্য এ প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মানের প্রক্রিয়া আছে।