সিরিশ কাগজ দিয়ে পিতলকে ঘষে নকল সোনার বারের মতো করে তৈরি করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। তারা রিকশাচালক বেশে ওই নকল সোনার বার যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছে। এতে টাকা-পয়সা খুইয়ে নিঃস্ব হতে হচ্ছে সহজ-সরল যাত্রীদের। এমন একটি চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নগরীর সদরঘাট থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার সুবিদ আলী গুলদার বাড়ির নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ টিটু (৩০), কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার মজলিজপুর এলাকার মো. রাশেদের ছেলে মোহাম্মদ দেওয়ান (২০) ও বরগুনার বেতাগী থানার কালিকা বাড়ির হোসেন মুন্সীর ছেলে আফজাল হোসেন (৩৮)।
সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নেজাম উদ্দিন নয়াদিগন্তকে বলেন, মোগলটুলী জাহাঙ্গীর মার্কেটের সামনে রাস্তায় নকল সোনার বারকে আসল সোনার বার উল্লেখ করে বিক্রি করছিল একটি চক্র। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে টিটু ও দেওয়ানকে ধরে ফেলে। এই দু'জনের কাছ থেকে একটি নকল সোনার বার, একটি সোনার আংটি, এক জোড়া সোনার কানের দুল, একটি সোনার নাকফুল জব্দ করে পুলিশ। এরপর ওই দু'জনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানাধীন উত্তর কাট্টলী এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আফজালকে গ্রেফতার করা হয়। সেখান থেকে একটি বড় সোনার বার, দুটি ছোট নকল সোনার বার, এক জোড়া সোনার কানের দুল ও শ্রী জুয়েলার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আটটি মেমো উদ্ধার করা হয়।
ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, সিরিশ কাগজ দিয়ে পিতল ঘষে সোনার বার সদৃশ করে ফেলতে পারে চক্রটি। পরে হাজারী গলির সোনার দোকানগুলো থেকে ২১ ও ২২ ক্যারেট লেখা সিল ১০০ টাকা দিয়ে কিনে এনে ওই নকল বারে মেরে দেয় তারা।
আরো পড়ুন :
মোবাইলের মাধ্যমে এবার ভিন্ন কৌশলে প্রতারণা
নেত্রকোনা সংবাদদাতা
গত সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় নয়া দিগন্তের নেত্রকোনা জেলা সংবাদদাতার ০১৭১২-৩৫২৪১১ মোবাইল নম্বরে গ্রামীণ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ক্যাশ ইন টাকা ৭৫০ ফ্রম ০১৭৮৯-৬৮২৯৪০। এই নম্বর থেকে একটি মেসেজ পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর ০১৭৯৫-৩৬০০৬৪ নম্বর থেকে কল করে বলা হয় বিকাশ করার সময় ভুল বশত আপনার মোবাইল নম্বরে সাড়ে ৭৫০ টাকা চলে গেছে। মেসেজ দেখে দয়া করে টাকাটা ওই নম্বরে পাঠিয়ে দিন। এ জন্য পর পর পাঁচবার তাগাদা দেয়া হয়। বিষয়টি গোলমেলে ও রহস্যজনক মনে হওয়ায় একটি বিকাশ এজেন্টে গিয়ে এ বিষয়টি অবহিত করার পর জানতে পারেন, কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য এই অভিনব পদ্ধতি বেছে নিয়েছে প্রতারক চক্র। সোমবার রাত ৮ টায় ওই নম্বরে কল করে জানতে চাওয়া হয় বিকাশ একাউন্ট না থাকার পরেও কিভাবে টাকা আসা সম্ভব। এমন প্রশ্নে ওই প্রতারক অপ্রস্তুত হয়ে দুই মিনিট পর কল করবেন বলে জানালেও একাধিকবার ওই নম্বরে কল দেয়ার পরেও রিসিভ করা হচ্ছে না।
ছোটবাজারের জনি ইলেক্ট্রনিকসের মালিক রনি ও কয়েকটি বিকাশ এজেন্টের সাথে এ বিষয়ে আলাপ করে জানা যায়, ইতোপূর্বে গাড়ি ও লাখ লাখ টাকার প্রলোভনের টোপ দিয়ে মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে প্রতারক চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওই কৌশলটি এখন আর আগের মতো কাজ না করায় তারা ভিন্ন কৌশলে প্রতারণা শুরু করেছে। তারা আরো জানান, প্রতারক চক্র মোবাইল ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন অঙ্কের টাকার ওই ধরনের মেসেজ দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকে প্রতারণায় পড়ে নিজের টাকা খুইয়েছেন। কাজেই প্রতারক চক্র থেকে মোবাইল ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা উচিত।





