খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার ৩ নং যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন পরিষদের স্থগিত নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ও আশে-পাশে উৎসবমুখর পরিবেশে এবং ভোটারের ব্যাপক উপস্থিতিতে সকাল থেকে ভোট গ্রহণ চলছে। সকাল ৮ থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত গড়ে ৫০% ভোট কাস্টিং হয়েছে বলে প্রিসাইডিং অফিসাররা নিশ্চিত করেছেন।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৩নং যোগ্যাছোলা ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মাঝে কিছুটা ভয়-ভীতি থাকলেও নির্বাচন চলাকালে সেটি বোঝা যায়নি। সকাল থেকে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে অনায়াসে ভোটাররা ভোট প্রদান করেছেন। কোথাও কোথাও চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীরা সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ায় ভোটাররা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে।

কালাপানি নতুন বাজার ইসলামীয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ভোটারদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র সাথে আনতে বাধ্য করার ঘটনায় কিছুটা সময় ভোটারদের মাঝে অস্বস্তিবোধ বিরাজ করলেও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

তবে কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটার উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, সাধারণ সদস্য পদে ২৫ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৩ জন।

এখানে মোট ভোটার পুরুষ ৪৩৯০ জন, মহিলা ৪৪৫৩জন। সকাল ৮ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটের পরিস্থিতি সর্ম্পকে জানতে চাইলে সরকার দলীয় প্রার্থী ক্যয়জরী মহাজন (নৌকা) বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীক মো. জামাল উদ্দীন বলেন, ভোটাররা ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে নিজের ভোট নিজে দিতে পারলে ফলাফল তার পক্ষে আসবে।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ আলমাছ মিয়া (আনারসে) বলেন, আমার ভোটারদেরকে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে, বহিরাগত লোকজন কেন্দ্রে জড়ো হয়েছে। আমি প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। এসব অনিয়ম ঠেকানো গেলে ফলাফল আমার পক্ষে আসবে।

সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যরা নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের খুঁজে খুঁজে কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে একযোগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও সীমানা বিরোধ সংক্রান্ত জনৈক ব্যক্তির মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে উপজেলার ৩ নং যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ সময় পর মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় গত ১০ জুন নির্বাচনী তফশীল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। ফলে আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।