ময়মনসিংহের গৌরীপুরের পল্লীতে বিয়ের আশ্বাসে দুই সন্তানের জননী রানী (৩৫) নামে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের ফলে ঐ নারী ৮ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বীরপশ্চিমপাড়া গ্রামে। বিধবা নারী ওই গ্রামের মৃত তপন চন্দ্রের স্ত্রী। গৌরীপুর থানা পুলিশ অভিযুক্ত বাদল চন্দ্র বর্মণ (৩৫) কে গ্রেফতার করে গত মঙ্গলবার জেলহাজতে পাঠিয়েছে। গ্রেফতারকৃত বাদল চন্দ্র বর্মণ পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ধামদী গ্রামের অবনী চন্দ্র বর্মণের ছেলে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৬ বছর আগে রামগোপালপুর ইউনিয়নের বীরপশ্চিমপাড়া গ্রামের তপন চন্দ্রের সাথে নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের ৪ বছর পর তার স্বামী তপন চন্দ্র মারা যান। এদিকে স্বামী মারা যাওয়ার সুযোগে রানীর দুলা ভাই বাদল চন্দ্র তার স্বামীর বাড়িতে প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করত। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রলোভনে তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এরপর একাধিকবার রানীকে ধর্ষণ করেন। ফলে রানী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
এই ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের উপস্থিতিতে গত ২ আগস্ট এলাকায় সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত সকলের সামনে বিউটিকে বিয়ে করবে বলে স্বীকার করেন বাদল। সেখানে বিয়ের দিন তারিখও নির্ধারন করা হয়। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হলে নানা টালবাহানা শুরু করেন বাদল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাদলের এক ঘনিষ্ঠজন জানান, জেলা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা মাহাবুবের মৎস্য খামারে কাজ করেন বাদল চন্দ্র বর্মণ। ফলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনির সাথে বিষয়টি নিয়ে তিনি সমঝোতার চেষ্টা করেন। তিনি আরো জানান, বিয়ে না করা শর্তে বিষয়টি মীমাংসার জন্য মাহাবুবসহ সংশ্লিষ্ঠদের মোটা অংশের টাকাও দিয়েছেন বাদল।
এদিকে অন্ত:সত্ত্বা বিউটি রানী মাতাব্বদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কারো কোন সহযোগিতা না পেয়ে অবশেষে নিরুপায় হয়ে গৌরীপুর থানায় ২০০০ সালের ৯ (১) ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা (মামলা নং-১৯ তাং-২১/০৮/১৮) দায়ের করেন। ওইদিন রাতেই গৌরীপুর থানা পুলিশ এক অভিযান চালিয়ে ধর্ষক লম্পট বাদল চন্দ্র বর্মণকে ঈশ্বরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) রিপন চন্দ্র সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার বলেন, এঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
আরো পড়ুন :
ইউপি চেয়ারম্যানের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঞ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা মো: ফজলুর রহমানের ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এতে ওই ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, উপেজেলার কাদিরগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান একটি কক্ষে টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় এক সঙ্গীর সাথে ইয়াবা সেবন করছেন।
ভিডিও পোস্টের সময়ানুযায়ী শুক্রবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে ‘সত্যেরপথে’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি আপলোড করা হয়। ভিডিওটি আপলোড হওয়ার পর মুর্হূতের মধ্যে উপজেলায় ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ইতিমধ্যে একাধিক গ্রপেও শেয়ারও হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এটি ভিও হয়েছে ৪ হাজার ৭শ’র বেশি।
এ ব্যাপারে করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মজিবুর রহমান জানান, ভিডিওটি আমাদেরও নজরে এসেছে। তবে মাদক আইনে সেবনকারীকে হাতেনাতে ধরতে হয়। এ ব্যাপারে আমরা চেষ্টায় আছি চেয়ারম্যানকে ধরার। তাকে হাতেনাতে ধরতে পারলেই আমরা আইনের কাছে সোপর্দ করব।
করিমগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন সুলতানা এ বিষয়ে বলেন, আমি আপনার কাছ থেকে শুনলাম বিষয়টি কেবল। তবে যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ বিষয়ে চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন , ‘আমি সিগারেট পর্যন্ত খাই না। বুঝতেছি না বিষয়টা কেমনে কি হলো। আমার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই ভিডিওটি ছাড়া হয়েছে।’





