ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ সবজির দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ, টমেটো ও শিমের দামে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। এতে বাজারে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শনিবার (১১ জুলাই) ব্রাহ্মণপাড়া সদর সাপ্তাহিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ২৪০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, পটল ৫০ টাকা এবং শিম ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জালিকুমড়া প্রতিটি ৪০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, কাঁচা কলার হালি ৫০ টাকা এবং ছড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। কয়েক দিন আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২৮০ টাকায় পৌঁছেছে।
বাজারে সবজি কিনতে আসা আজাদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কাঁচা মরিচ কিনতে এসে দেখি এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) মরিচের দাম ৭০ টাকা। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও একই পরিমাণ মরিচ ২০ টাকায় কিনেছি। শুধু মরিচ নয়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সংসার চালানো এখন খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।’
দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে খুচরা সবজি বিক্রেতা নাজির হোসেন বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে অনেক সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন কমেছে এবং অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।’
আরেক ব্যবসায়ী আবু সায়েম বলেন, ‘আমরাও বেশি দামে কিনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম বাড়লেও অতিরিক্ত লাভ হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা কম।’
বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রাহ্মণপাড়া সদর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী মোয়াজ্জেম হোসেন দুলাল বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে দাম বেড়েছে। তবে কোনো ব্যবসায়ী যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’
কৃষি ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: আবদুল মতিন বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকার সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্ষেতের সবজি পচে গেছে। কৃষকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ক্ষতি কমানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়বে এবং দামও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে।’















