বগুড়ার শেরপুরে ‘গোলাগুলিতে’ শফিউর রহমান জ্যোতি (৫৩) নামে চরমপন্থী দলের এক আঞ্চলিক নেতা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে শেরপুর-ধুনট সড়কের বোয়ালকান্দি ব্রিজের কাছে ওই ঘটনা ঘটে।

নিহত জ্যোতি ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের প্রতাপখাদুলি গ্রামের মৃত মোজাফফর হোসেনের ছেলে ও ধুনট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি গত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ানশুটার গান, ৩ রাউন্ড গুলি, ১টি রামদা এবং জ্যোতির ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই শেরপুর উপজেলারই ভবানীপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজের কাছে দু’দল চরমপন্থীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ লিটন (৩৬) ও আফসার (৪৫) নামে নিষিদ্ধ ওই সংগঠনের দুই সদস্য নিহত হয়। লিটনের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এবং আফসার একই জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, জ্যোতি খুব অল্প বয়সে চরমপন্থী দলের সাথে যুক্ত হয়। তিনি নিষিদ্ধ ওই সংগঠনের আঞ্চলিক নেতা হিসেবে পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জে বিচরণ করতেন। পুলিশের রেকর্ডে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যাসহ মোট ১৩টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ১৯৮৭ সালে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানা লুটের একটি মামলায় তার ৮৪ বছরের সাজা হয়েছিল।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, শেরপুর উপজেলার বোয়ালকান্দি এলাকায় শেরপুর-ধুনট সড়কে ব্রিজের কাছে গোলাগুলি হচ্ছে এমন খবর পেয়ে তিনি এবং শেরপুর থাার ওসি হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায় এবং একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানোর সময় নাম জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নিজের নাম জ্যোতি এবং বাড়ি ধুনট বলে জানান। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয় ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে শজিমেক হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জ্যোতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, পুলিশের ক্রিমিনাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) খুঁজে নিহত জ্যোতির নামে ১৩টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটিই হত্যা মামলা।

শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ধুনট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরাফাতুজ্জামান পাশা জানান, ৯০ দশকের দিকে সরকারের সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে সর্বহারা পার্টি থেকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন জ্যোতি। আত্মসমর্পণ করার কারণে তার সাজাও উচ্চ আদালত থেকে মাফ করা হয়। শফিউর রহমান জ্যোতি ধুনট উপজেলার বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এখনো দলের কর্মী হিসেবে প্রকাশ্যে কাজ করে আসছিলেন। তিনি বিগত মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম।