রাজধানী ঢাকা থেকে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশ মুখে নির্মাণ করা হবে ৯টি বাস টার্মিনাল। এ লক্ষ্যে সমীক্ষার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। নতুন বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু স্থানও চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা হলে আন্তঃজেলার কোনো বাস আর রাজধানীতে প্রবেশ করবে না। রাজধানী ঢাকায় পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যানজট কমানোর লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এ উদ্যোগ। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলেও পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যানজট কমা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।
তাদের মতে এতে করে যাত্রীদের হয়রানি আরো বাড়তে পারে। একটি বড় বাস যখন ৪০-৫০ জন যাত্রী ঢাকার প্রবেশমুখে নামিয়ে দেবে তখন তারা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা যানবাহন নিয়ে যার যার বাসার দিকে যাত্রা করবে।
কেউ প্রাইভেট কারে, কেউ সিএনজিতে, কেউ সিটি বাস সার্ভিসে করে বাসায় যাবে। এভাবে টার্মিনালে আসার ক্ষেত্রেও তারা একই পদ্ধতি অবলম্বন করবে। এভাবে প্রতিটি টার্মিনালে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর আসা-যাওয়ার জন্য অনেক ধরনের ছোট গাড়ি ব্যবহার করতে হবে। ফলে রাজধানীর মধ্যে ছোট যানবাহন চলাচলের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বাড়বে। বাড়বে ট্রিপের পরিমাণ। ফলে যানজট কমবে না। এখনো শহরের মধ্যে অবস্থিত বাস টার্মিনালে যাওয়া আসার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতিই অবলম্বন করে যাত্রীরা। কিন্তু এখন বাস টার্মিনালগুলো রাজধানীর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় তা অনেকের বাসার কাছাকাছি এবং সহজে যাত্রীরা সেখানে পৌঁছতে পারে অনেক ক্ষেত্রে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাসা থেকে টার্মিনাল এবং টার্মিনাল থেকে বাসায় পৌঁছার ক্ষেত্রে যাত্রীদের যে পরিবহন পরির্তন করতে হয় সে ব্যাপারে উন্নত ব্যবস্থা থাকলে টার্মিনাল সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগে কিছুটা সুফল আসতে পারে। সে লক্ষ্যে নগরীর মধ্যে উন্নতমানের পরিবহন ব্যবস্থা থাকতে হবে। কারণ সাধারণত যারা বাসা থেকে ঢাকার বাইরে বা গ্রামে যান তাদের সাথে ভারী ব্যাগ থাকে। নগরীর মধ্যে গণ পরিবহন ব্যবস্থা যদি উন্নত না হয় এবং টার্মিনালের সাথে সারা শহরের উন্নত নেটওয়ার্ক না থাকে তাহলে এ উদ্যোগের পরও পরিবহন ব্যবস্থায় শ্ঙ্খৃলা নাও আসতে পারে। বরং বাড়তে পারে যাত্রীদের হয়রানি।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এর ১৩তম সভায় ঢাকা মহানগরী থেকে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
গত ১ ডিসেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন ঢাকা থেকে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রফেসর আকতার মাহমুদ বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেয়া বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শর্তসাপেক্ষে এটা সফল হতে পারে। সেজন্য নগরীর মধ্যে উন্নত গণ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং বাস টার্মিনালগুলোর সাথে সব রুটের ভালো সংযোগ থাকতে হবে। যাত্রীদের আন্তঃপরিবর্তনের ব্যবস্থা সহজ করতে হবে। প্রফেসর আকতার মাহমুদ বলেন, আমরা রাজধানীতে ক্ষুদ্র গাড়ি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করি। কিন্তু আশঙ্কা আছে এ উদ্যোগের ফলে ক্ষুদ্র গাড়ির ব্যবহার বাড়তে পারে।
ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টোর প্রোগ্রাম ম্যানেজার পরিবহন ব্যবস্থা বিষয়ক গবেষক মারুফ হোসেন বলেন, আমি সম্প্রতি বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড ও প্যারিস সফরের সময় দেখেছি, সেখানে শহরের কেন্দ্রস্থলে অন্য দেশের বড় বড় বাস প্রবেশ করে। আমার জানামতে বিশ্বের অনেক উন্নত এবং বড় বড় শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকে রেল স্টেশন। কিন্তু সেখানে এ জন্য কোনো সমস্যা হয় না। তবে সেখানকার পরিবেশ, জনসংখ্যা এবং অন্যান্য অনেক বিষয় থেকে এখনাকার পরিস্থিতি ভিন্ন। কিন্তু তার পরও যানজট নিরসন ও পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলার যে উদ্দেশে টার্মিনাল সরিয়ে নেয়ার কথা বলা হচ্ছে তা সফল করতে হলে প্রথমে যেটা করত হবে সেটা হলো নগরীর মধ্যে উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং বাস টার্মিনালের সাথে উন্নত নেটওয়ার্কিং। তা না হলে এর ফলে যাত্রী হয়রানি আরো বাড়বে এবং যানজটও বাড়বে শহরের মধ্যে।
যানজট নিরসন
আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ঢাকার বাইরে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ
সফলতা নিয়ে সংশয় বিশেষজ্ঞদের
রাজধানী ঢাকা থেকে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশ মুখে নির্মাণ করা হবে ৯টি বাস টার্মিনাল। এ লক্ষ্যে...





