দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণে ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠছে সিলেট। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে ২৭১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ে এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় বিভাগজুড়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর ঝুঁকি সর্বোচ্চ। ঘনবসতি, বছরজুড়ে এডিস মশার প্রজনন এবং মশা নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সারা দেশে সমন্বিত ও কেন্দ্রীয় মশা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।

তথ্য বলছে, সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুর হটস্পট হবিগঞ্জ জেলা। এ জেলায় সর্বোচ্চ ১২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে মৌলভীবাজার জেলা। এই জেলায় সবচেয়ে কম ২৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় সিলেটে চারজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন শনাক্তদের মধ্যে সিলেট জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতাল একজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুইজন এবং লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে মোট ২৭০ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে ৫২, সুনামগঞ্জে ৫৯, হবিগঞ্জে ১২০ এবং মৌলভীবাজারে ২৮ জন। এছাড়া অন্য জেলা থেকে এসে চিকিৎসা নেয়া ১১ জন রয়েছেন।

বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নয়, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চার, পার্কভিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে তিন, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে তিন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে দুই জন ভর্তি রয়েছেন।

চলতি মৌসুমে সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বাসিন্দা কৃষ্ণ দাস (৪৫) ডেঙ্গুতে মারা যান। এর আগে গত ২ আগস্ট সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আফিয়া খানম (৫৪) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।

এদিকে শনিবার থেকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিন মাস ব্যাপী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীট তত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার সতর্ক করে বলেন, ‘আগস্ট জুড়েই ডেঙ্গুর সংক্রমণ অনেকটা বেড়েছে এবং সেপ্টেম্বরেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ বছর সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায় সেপ্টেম্বরেও হতে পারে।’

এই কীটতত্ত্ববিদ বলেন, ‘সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং উৎসস্থল ব্যবস্থাপনা।’

তিনি বলেন, ‘মূল কৌশল হলো মশার প্রজননস্থল নির্মূল করা। যেসব প্রজননস্থল অপসারণ বা ধ্বংস করা সম্ভব নয়, সেখানে দীর্ঘস্থায়ী কীটনাশক বা মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান ব্যবহার করতে হবে।’

মশা নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আরো সক্রিয় ভূমিকারও আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে মশা নিয়ন্ত্রণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরো সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে।