এবারের ঈদযাত্রায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো যাত্রীরা ভোগান্তি ছাড়াই গন্তব্য পৌঁছাতে পারলেও ফিরতি পথের অভিজ্ঞতা এখন তাদের সামনে। ঈদপূর্ব ও ঈদের দিনসহ পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা দিয়ে গত সাত দিনে রাজধানী থেকে ছেড়ে আসা দক্ষিণবঙ্গ ও ঢাকাগামী প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার ৯৮৬টি গণপরিবহন পারপার হয়েছে। এ সময় টোলপ্লাজায় ঘরমুখো মানুষের এসব গণপরিবহনের চাপ থেমে থেমে দেখা দিলেও কিছু সময়ের মধ্যেই সেতু পাড়ি দিতে সক্ষম হয় এসব যানবাহন। এতে করে এবারের ঈদে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় দীর্ঘ সময়ের জন্য যানজটে আটকে থাকার জনভোগান্তি নেই। কেননা মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে ৮টি করে বুথসহ উভয় প্রান্তে মোট ১৬টি টোলবুথ সচল থাকায় কিছু সময় ব্যবধানে সেতু পাড়ি দিতে সক্ষম হন ঈদে ঘরমুখো মানুষ। তাই সেতু দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহনগুলো চলাচল করেছে নির্বিঘ্নে।
এদিকে পদ্মার বুক মাড়িয়ে চলতে থাকা যানবাহনগুলো থেকে দিন দিন বেড়েই চলেছে টোল আদায়ের পরিমাণ। ২০২২ সালের ২৬ জুন পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে চলতি বছরের গত ১ এপ্রিল পর্যন্ত মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্তের টোল প্লাজায় সর্বমোট টোল আদায় হয়েছে ২ হাজার ২৮৫ কোটি ৪৩ লাখ ৬ হাজার ৩০০ টাকা।
এ দিন পর্যন্ত মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ৮৭ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৪টি ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ৮৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৮০টি যানবাহনসহ সর্বমোট পারপার করা হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪৪টি যানবাহন। আর ঈদের দিনসহ ঈদযাত্রার ২৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৭ দিনে পদ্মা সেতু হয়ে ২ লাখ ৫ হাজার ৯৮৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে মোট ২২ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা টোল আদায় হয়।
সেতু কর্তৃপক্ষ এ সাত দিনের মধ্যে পাঁচ দিনই ৩ কোটি টাকার ওপরে টোল আদায়ে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে। সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী (টোল, ব্রিজ অ্যান্ড বিইএফ ও রোড আরটিডব্লিউ অ্যান্ড বিল্ডিং) আবু সায়াদ নিলয় নয়া দিগন্তকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২৫ মার্চ মোট যানবাহন পারপার হয়েছে ২১ হাজার ৬৫৫টি। এ দিন মোট টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৭৮ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা। ২৬ মার্চ মোট যানবাহন পারপার হয়েছে ২৬ হাজার ৪২৮টি। এদিন টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকা। পরদিন ২৭ মার্চ ২৭ হাজার ৬৮৩টি যানবাহন পারপার হলে মোট টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫০ টাকা।
২৮ মার্চ যানবাহন পারপার হয়েছে ৩৯ হাজার ৬৩৭টি। এদিন মোট টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকা। এটি এ পর্যন্ত টোল আদায়ের সর্বোচ্চ পঞ্চম রেকর্ড বলে জানা গেছে। পরদিন ২৯ মার্চ মোট যানবাহন পারপার হয়েছে ৩৬ হাজার ৯২৪টি। এদিন টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৭ লাখ ৯২ হাজার ২০০ টাকা। ৩০ মার্চ যানবাহন পারপার হয়েছে ৩৪ হাজার ২৪১টি। এদিন টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা। আর ঈদের দিন ৩১ মার্চ ১৯ হাজার ৪১৮টি যানবাহন পারপার করে টোল আদায় হয় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি ঈদেই দেশের ২৩টি জেলার লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করে থাকেন এই মহাসড়ক দিয়ে। লম্বা ছুটির কারণে এবার ঈদযাত্রায় চাপ অপেক্ষাকৃত কম। তবে অনেকেই গরম এবং যানজট এড়াতে সেহেরির পরপরই বেরিয়ে পড়েন। তাই ভোরের দিকে টোল প্লাজা ঘিরে যানবাহনের কিছুটা লম্বা লাইন দেখা দিলেও কিছু সময়ের মধ্যেই তা কমে যায়। কখনও কখনও টোল প্লাজার সামনে একেবারেই ফাঁকা ছিলো।
এদিকে সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়া দিগন্তকে জানান, ঈদপূর্ব যাত্রীরা ভোগান্তি ছাড়াই গন্তব্য পৌঁছাতে পেরেছে। এবার আমাদের আগেভাগেই বাড়তি বিশেষ প্রস্তুতি ছিল। ঈদ পরবর্তী কর্মস্থলে ফেরার চাপ এখনো দেখা না দিলেও জাজিরা প্রান্তে আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। কোনো রকম ভোগান্তির শঙ্কা নেই বলে আমরা আশা করছি।








