ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠাণ্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনজীবন। জেলায় আজ সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ অবস্থায় গরম কাপড়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নি¤œ আয়ের মানুষেরা। কাজে বের হতে পারছেন না শ্রমজীবী মানুষ। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার ৪ শতাধিক চরাঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারগুলো। তীব্র শীত কষ্টে ভুগছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় নি¤œগামী হয়ে পড়ছে রাতের তাপমাত্রা। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারদিক। এ অবস্থা চলছে পরের দিন বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত।
হতদরিদ্র মানুষ তীব্র শীতে কষ্টে ভুগলেও সরকারি ও বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বলদীপাড়া গ্রামের ছলিমা বেগম বলেন, ‘খুবই ঠাণ্ডা পড়েছে। আমরা দিনমজুর মানুষ। প্রতিদিন কাজ চলে না। টাকা পয়সা নেই, গরম কাপড় কিনতে পারছি না। ৪টা বাচ্চা নিয়ে শীতের মধ্যে খুব কষ্টে আছি। কেউ কোনো কম্বল দেয়নি। একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ভোলা মিয়া বলেন, আমার ওয়ার্ডে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ। আমি সরকারি কম্বল পেয়েছি মাত্র ২৭টি। যা মাত্র ২৭ জনকে দেয়া সম্ভব হয়েছে। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আইয়ুব আলী সরকার বলেন, শীতের শুরুতে সরকারি ৬৪০টি কম্বল পেয়েছি যা ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। আমার ইউনিয়নের প্রায় পুরোটাই চরাঞ্চল এবং প্রায় সব মানুষই হতদরিদ্র।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, শীতের শুরুতেই ৩৫ হাজার কম্বল জেলার ৭২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা গুলোতে বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে ৯ উপজেলার প্রত্যেক উপজেলার জন্য শীতবস্ত্র কেনার জন্য ৬ লাখ করে টাকা ও ১ হাজার করে শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা দু’একদিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।