পলি খাতুন। রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার জুলহাস আলীর মেয়ে। চার বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের গোপালহাটি ফকিরপাড়া এলাকার ফিরোজ আলীর সাথে। বিয়ের আগেই ফিরোজ ঝুঁকতে থাকেন নেশার দিকে। এক সময় নেশাটাই পেশা হয়ে ওঠে ফিরোজের। বিয়ে তার নেশার অভ্যাস বদলাতে পারেনি। এ নিয়ের প্রায় সময় স্ত্রী পলির (২০) সাথে ঝগড়া হতো ফিরোজের। এরমধ্যেই তাদের ঘর আলোকিত করে আসে প্রথম সন্তান ফাহিম আলী। তার বয়স এখন আড়াই বছর। বিদায়ী বছরের মাঝামাঝিতে তাদের ঘরে আসে দ্বিতীয় সন্তান ফারিহা। তার বয়স হয়েছিল পাঁচ মাস।
নেশার ঘোরে থাকা ফিরোজের সন্তানের প্রতি এতটুকুন মমত্ববোধ ছিল না। চাওয়া পাওয়া বলতে যা ছিল সবটাই নেশাকে কেন্দ্র করে। মাদকের টাকার যোগান দিতে ফিরোজ বিক্রি করতে থাকেন ঘরের জিনিসপত্র। এ নিয়ে প্রতিবাদ করেন পলি খাতুন। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতের খাবার শেষ করে ঘুমাতে যান পলি। সাথে পাঁচ মাসের ফারিহা। অপর সন্তান ফাহিম আলী ঘুমিয়ে পড়েছে মা ও বোনের আগে।
তখন রাত ১১টা প্রায়। নেশাগ্রস্ত ফিরোজ ঘরে এসে স্ত্রী ও শিশু ফারিহাকে হত্যা করেন বালিশ চাপা দিয়ে। এর পরই ঢাকার উদ্দেশে পালিয়ে যান ফিরোজ। ততক্ষণে মা ও বোনের লাশে পাশে বসে কাঁদতে থাকে ফাহিম আলী। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন ফিরোজের মা-বাবা। ঘরে ঢুকেই দেখতে পান বিছানায় পড়ে আছে পলি ও শিশু ফারিহার লাশ। খবর দেন পুলিশের কাছে। লাশ দুটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ রাজধানী ঢাকার গাবতলীতে একটি বাস থেকে আটক করে পাষণ্ড ফিরোজকে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) খালেদুর রহমান বলেন, রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় লাশের পাশ থেকে একটি বড় বালিশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বালিশ দিয়েই তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুঠিয়া থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।





