বকেয়া বেতনসহ ৭ দফা দাবি ও সকল অনিয়ম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে গার্মেন্টসশ্রমিকরা। সোমবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে শিল্পনগরী কাঁচপুর এলাকার ওপেক্স ও সিনহা গ্রুপের শ্রমিকরা এ মানববন্ধন করে। সকাল থেকে কাজে যোগ না দিয়ে গার্মেন্টসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
এ সময় বিক্ষিব্ধ শ্রমিকরা গার্মেন্টসটির পরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখে। তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বলে জানান।
পড়ুন :
ইসরাইলে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ
মোদি বিরোধী বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনায় রাজধানীতে যুবদলের মিছিল-ভাংচুর
এ দিকে ঘটনার খবর শুনে শিল্পাঞ্চল পুলিশ ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। বিক্ষিব্ধ শ্রমিকরা যাতে মহাসড়কে অবস্থান করতে না পারে এজন্য কঠোর অবস্থানে ছিল শিল্পাঞ্চল পুলিশ সদস্যরা। সোমবার সকাল থেকে দিনভর এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা। বিকেলে মালিক পক্ষের আশ্বাসে শ্রমিকরা তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওপেক্স ও সিনহা গ্রুপের শ্রমিকদের বেতন পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে দেয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় মাসের ৩০ তারিখেও দেয় না তারা। এছাড়া শ্রমিকদের সার্ভিসের টাকা ছাড়া জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর, বেআইনিভাবে লে-অফ দেয়াসহ ৭ দফা ও বিভিন্ন অনিয়ম করে ওপেক্স ও সিনহা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ।
ওই সূত্র আরো জানায়, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ৭ দাবিসহ সকল অনিয়ম বন্ধের দাবিতে কাঁচপুর ওপেক্স ও সিনহা গ্রুপের সকল শ্রমিকরা সোমবার সকাল থেকে কাজে যোগদান না করে গার্মেন্টসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয় ও খণ্ডখণ্ড মিছিল বের করে। এ ছাড়া শ্রমিকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধনে শ্রমিকরা তাদের ৭ দফা দাবি আদায়ের কথা জানান।
আরো পড়ুন :
পুলিশকে ফরাসি সরকার ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিক্ষোভ-সমাবেশ নিষিদ্ধ করুন
মোদিবিরোধী বিক্ষোভে কেন এত জ্বলে উঠলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া?
সোম ও মঙ্গলবার বিএনপির বিক্ষোভ
শ্রমিকদের ৭ দফা দাবি হলো : লে-অফ মানি না, ১ থেকে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে বেতন দিতে হবে, মাতৃত্বকালীন ভাতা ছুটিতে যাওয়ার আগে প্রদান করতে হবে, চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ার ৬০ দিনের মধ্যে সমস্ত পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। যা বিগত ৬ বছরেও দেয়া হয়নি, অকারণে মামলা দেয়া চলবে না, চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে ও ফ্যাক্টরি চালাতে না পারলে ৪ মাসের বেতন ছুটি এবং সার্ভিসের টাকা সম্পূর্ণ দিয়ে দিতে হবে।
এ দিকে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে গার্মেন্টসের পরিচালক মোহাম্মদ তারেক রহমানের অফিস কক্ষে গিয়ে তাদের দাবি নিয়ে কথা বলে। পরে শ্রমিকরা ওই পরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখে। তবে গার্মেন্টস শ্রমিকরা গার্মেন্টসের পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কে অবস্থান করেনি। তারা কয়েকবার মহাসড়কে অবস্থান নিতে চাইলেও পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।
এ সময় গার্মেন্টসের শ্রমিকদের উত্তেজনার খবর পেয়ে কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কোনো শ্রমিককে তারা মহাসড়কে অবস্থান করতে দেয়নি।
শ্রমিক সেলিনা আক্তার, হালিমা, আমেনা বেগম, জমির হোসেন ও মোতালেবসহ একাধিক শ্রমিক জানান, বেতন-ভাতার এ সমস্যা ৫ বছর ধরে চলছে। আন্দোলন করে বেতন-ভাতা নিতে হয়। আমাদের মাতৃত্বকালীন টাকা পরিশোধ করে না। রিজাইনের টাকা, ছুটির টাকা দেয় না। কিছু বললেই গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করে। অনেক শ্রমিককে মামলাও দেয়।
গার্মেন্টসের পরিচালক মোহাম্মদ তারেক রহমান জানান, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়া হবে। তবে কোনো অযৌক্তিক দাবি মেনে নেয়া হবে না।








