নওগাঁর মহাদেবপুরে ঘরে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শাস্তি হিসেবে গ্রাম্য সালিশে ওই তিনটি থাপ্পড় ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে গ্রামের মাতব্বর।

এ দিকে জরিমানার সম্পূর্ণ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম খোদাবক্স (৪৪)। তিনি তিন সন্তানের জনক।

বৃহস্পতিবার উপজেলার স্বরুপপুর নিচপাড়া গ্রামে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলছাত্রীর বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তারা অনেক গরিব ও অসহায়। গত ১০ জুন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী খোদাবক্স তার ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশী এক নারী এগিয়ে এলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। পরে স্কুলছাত্রী তার ভাবিকে ঘটনাটি জানায়। বিষয়টি চাপা থাকলেও ঘটনার তিন দিন পর এলাকায় জানাজানি হয়। অভিযুক্ত খোদাবক্সের চাচাতো ভাই সেকেন্দার ওরফে সেকেন গ্রামের প্রধান মাতব্বর হওয়ার কারণে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয় দেখিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে গত ১৩ জুন রাতে গ্রাম্য সালিশে ঘটনার সত্যতা মিলে। এরপর খোদাবক্সের শাস্তি হিসেবে তিনটি থাপ্পড় ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন মাতব্বররা। জরিমানার ২০ হাজার টাকা ভবিষ্যতে স্কুলছাত্রীর ‘বিয়ের খরচের’ জন্য সেকেন্দার তার কাছে জমা রেখে দেন।

স্কুলছাত্রীর ভাবি সাংবাদিকদের জানান, মাতব্বররা তাদের খেয়ালখুশি ও নিজের ইচ্ছেমতো বিচার-সালিশ করেছেন। ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরও তিন সন্তানের জনক অভিযুক্ত খোদাবক্সকে কেবল তিনটি থাপ্পড় দেয়া হয় ও মাত্র ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে জোরপূর্বকভাবে আপসের চেষ্টা করা হয়। আর জরিমানার টাকাও মাতব্বরদের পকেটেই আছে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলেও গ্রামে থাকতে পারব না। এজন্য তাদের বাইরে গিয়ে আমরা কিছু করতে পারছি না। আমাদের যে সম্মানহানি হয়েছে মাতব্বরা তো আর সেটা ফিরিয়ে দিতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে গ্রামের প্রধান মাতব্বর সেকেন্দার বলেন, গ্রামের লোকজন সকলের যৌথ উদ্যোগে গ্রামের রাজ্জাকের বাড়ির খলিয়ানে সালিশ বৈঠক হয়। যেখানে আবদুর রাজ্জাক, সেকেন মন্ডল, দুলাল ও মিঠুনসহ গ্রামের আরো মাতব্বর ও লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সালিশে উপস্থিত সবার সিদ্ধান্তে দোষী ব্যক্তির ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার ২০ হাজার টাকা আমার কাছে গচ্ছিত আছে। যখন ওই স্কুলছাত্রীর (ভিকটিমের) বিয়ে হবে সেই বিয়েতে জরিমানার টাকা খরচ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গ্রামের আরেক মাতব্বর আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বৈঠকে আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম, এ ঘটনা তেমন কিছু বিষয় না। আমিসহ গ্রামের মাতব্বরদের সিদ্ধান্তে ঘটনাটির আপস-মীমাংসা করা হয়েছে।’

মহাদেবপুর থানার পরিদর্শক আজম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।