ফেনীর সোনাগাজীতে নিখোঁজের প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর সিদরাতুল মুনতাহা আয়াত (৩) নামে এক শিশুর লাশ পুকুরে পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের মধ্যম চর চান্দিয়া গ্রামের ঈদগাহের পশ্চিম পাশে মোজাফফর আলীর বাড়ির পাশের পুকুরে তার লাশ ভেসে ওঠে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।

আয়াত উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের মধ্যম চর চান্দিয়া গ্রামের শেখ সাহাব সজীব ও জান্নাতুল ফেরদৌস মনির মেয়ে।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও শিশুটির স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মনি তার শিশু কন্যা আয়াতকে দাদির কাছে রেখে নিজের বাবার বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করছিলেন। দুপুর ১টার দিকে দাদি নামাজ পড়তে গেলে শিশুটি নিখোঁজ হয়। দুপুর দেড়টার দিকে শিশুর দাদা শেখ মুজিব সোনাগাজী মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

এদিকে অনেক খুঁজেও শিশুটিকে না পেয়ে রাতে তার মা মনি দাদাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পরে ভোর ৫টার দিকে আয়াতের ফুফু রুমি আক্তার পুকুরে তার লাশ ভাসতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে লাশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এরপর পুলিশ লাশটি ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বাদ আসর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিশুটিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শিশুটির মা জান্নাতুল ফেরদৌস মনি জানান, তাদের বিয়ের পাঁচ বছর হয়েছে। বিয়ের প্রায় এক বছর পর তার স্বামী জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব চলে যান। তার বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পর পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তাকে ও আয়াতকে শ্বশুর-শাশুড়ি ঘর থেকে বের করে দেন। পরে তিনি আয়াতকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

তিনি আরো বলেন বলেন, কয়েক দিন আগে শিশুটির দাদা, দাদি, ফুফু ও চাচা মিলে তাকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। তার অভিযোগের পর স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন খোকনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া আগামী মাসে (সেপ্টেম্বর) সৌদি আরব থেকে তার স্বামীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির দাদা, দাদি, ফুফু ও চাচারা সজীব ও মনির বিয়ে বিচ্ছেদ চান। শিশুটি জীবিত থাকলে তাদের বিচ্ছেদ হবে না—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হতে পারে বলে তারা অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই পুকুরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপকভাবে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পাননি। আগের দিন যে পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়েছিল, সেখানেই পরদিন ভোরে লাশ ভেসে ওঠায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় দাদা ও মায়ের পক্ষ থেকে পৃথক দুইটি জিডি করার বিষয়টিও স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। শিশুটির মৃত্যু দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।

শিশুটির মা জান্নাতুল ফেরদৌস তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য দাদা, দাদি, ফুফু ও চাচাসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দায়ী করে তাদের শাস্তির দাবি করেছেন। তবে দাদার পরিবারের কারও বক্তব্য জানা যায়নি।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে শিশুর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। তখন পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।